‘হ্যাঁ, আমরা সরকার পরিবর্তন চাই’—বিজেপিকে প্রশান্ত ভূষণ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পেছনে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্য রয়েছে—বিজেপির এমন অভিযোগের জবাবে এবার প্রকাশ্যেই সরকার পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রশান্ত ভূষণ। তার বক্তব্যের পর বিজেপি বলেছে, বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবার স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা এবং ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অভিজিৎ দীপকের পাশে বসে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা সরকার পরিবর্তন চাই।’
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এখন লড়াইটি সরকার পরিবর্তনের দিকেই এগোচ্ছে।

প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘সরকার অভিযোগ করছে, বিরোধীরা সরকার পরিবর্তন করতে চায়। আমরা বর্তমানে নির্বাচন যেন সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করছি। কিন্তু এ ধরনের নিষ্ঠুরতা চলতে থাকলে অবশ্যই সরকার পরিবর্তন হবে। হ্যাঁ, আমরা সবাই সরকার পরিবর্তন চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে ভুল কী? বিজেপিও তো সরকার পরিবর্তনের দাবিতে একাধিক আন্দোলন করেছে। আর এখন তারাই বলছে, সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে।’
প্রশান্ত ভূষণের অভিযোগ, একটি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে এখন প্রকৃত লড়াই চলছে। তার দাবি, সরকার গণতন্ত্রকে দমন করছে। কর্তৃপক্ষ যত বেশি বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করবে, তত বেশি মানুষ রাজপথে নামবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য: রাজনাথ সিং
প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের জবাবে শুক্রবার সকালে উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, বিক্ষোভকারীরা দেশের তরুণদের বিশৃঙ্খল রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।
তিনি বলেন, ‘তারা দেশের তরুণদের বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে দাবার ঘুঁটিতে পরিণত করতে চাইছেন। বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটানোই তাদের লক্ষ্য।’
রাজনাথ সিংয়ের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একজন সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যেই বলেছেন যে সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আরেকজন প্রকাশ্যে সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও ‘বিশৃঙ্খলা ছড়ানো’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীদের বুঝতে হবে, গণতন্ত্র মানে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার কিংবা ভারতের উন্নয়নের যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার লাইসেন্স নয়।’
এসআইআর ছিল ধোঁয়াশা তৈরির কৌশল: বিজেপি
প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও সরব হয়েছে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ইস্যুটি ছিল রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করার কৌশল। তাদের লক্ষ্য ভারতীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করা এবং অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করা।
বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবন এনডিটিভিকে বলেন, ‘প্রশান্ত ভূষণ রক্তপাতের কথা বলেছেন, নেহা বোরা বাংলাদেশের কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, রাহুল গান্ধী ও তার রাজনৈতিক বলয়ের কাছে এসআইআর প্রক্রিয়াটি ছিল কেবল ধোঁয়াশা তৈরির আড়াল। ভারতীয় গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করা এবং অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা দখল করাই তাদের গোপন উদ্দেশ্য ও বিশৃঙ্খল এজেন্ডা।’
এর আগে বৃহস্পতিবারও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। সেদিন বিজেপি নেতারা নেহা বোরার একটি ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের প্রশংসা করতে শোনা যায়।
ভিডিওতে নেহা বোরাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তা প্রথম বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল। আমাদের পথ দেখানো এবং এ দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’
বিজেপির দাবি, ভিডিওটি বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্যের প্রমাণ। দলটির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী ও তার রাজনৈতিক বলয় কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তারা সরকার পরিবর্তন করতে চান।
তিনি আরও দাবি করেন, এক সাক্ষাৎকারে নেহা বোরা বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা বলেছেন এবং ভারতে একই ধরনের ঘটনা ঘটানোর লক্ষ্য তাদের রয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের সরকার পরিবর্তনের দাবি, বিজেপির অভিযোগ এবং আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
