Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প

Advertisement

Icon

আবদুস সামাদ আজাদ

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬ পিএম

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা করায় তিনি আটসাট বেধে নামছেন। প্রয়োজনে  কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষমতা ধরে রাখার প্রস্তুতিও রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হাউস নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা যথেষ্ট কঠিন বলে মনে হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস এখন দুই কক্ষের (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেয়ে অন্তত সিনেট রক্ষা করাকেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। ভোটার পরিচয় ও পোস্টাল ভোটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার কৌশলও নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতার বিতর্ক তুলেও ভোটারদের মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন তিনি। 

লন্ডন ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউজ লিখেছে, অন্তত একটি কক্ষ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নির্বাচনটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক ক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও প্রভাবিত করতে পারে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হবে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজে প্রার্থী নন। ফলে তার শাসন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ সরাসরি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

এজন্য ট্রাম্প এক বক্তব্যে রিপাবলিকানদের উদ্দেশে বলেছেন, 'মনে করুন আমি ব্যালটে আছি। 

রিপাবলিকানরা মনে করছে, ট্রাম্পের প্রভাবে দলের ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে  বেশি সংখ্যায় আসে, তাহলে ক্ষতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব।   

রিপাবলিকান শিবির চাঙ্গা করাই প্রধান লক্ষ্য 

রিপাবলিকান শিবির চাঙ্গা করতেই নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই ব্যাপক প্রচারে নামছেন। রিপাবলিকানদের হিসাব হলো, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা আগের মতো না থাকলেও তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আবেদন এখনও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে টেক্সাস, আইওয়া, আলাস্কা ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য ট্রাম্প সমর্থকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে সিএনএনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। 

কিন্তু বাস্তবতা হলো, রিপাবলিকান প্রার্থীদের একটি অংশ জীবনযাত্রার ব্যয়, নিত্যপণ্যের দাম এবং ইরান যুদ্ধের মতো ইস্যু সামনে আনছেন। তারা এখন উল্টো ট্রাম্প থেকে নিজেদের কিছুটা দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। 

মিশিগানের সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের মতো প্রার্থীরা মন করেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার চেয়ে অর্থনীতি ও যুদ্ধের প্রভাব ভোটে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।  

সিনেট রক্ষা চায় হোয়াইট হাউস 

ট্রাম্পের এক উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচন ‘খুব কঠিন’ হতে যাচ্ছে এবং রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হতে পারে সিনেট ধরে রেখে হাউস হারানো। অর্থাৎ, হোয়াইট হাউস এখন দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেয়ে অন্তত সিনেট রক্ষা করাকেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

ব্রুকিংসের হিসাবে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিতে মাত্র কয়েকটি আসনই প্রয়োজন হতে পারে। ভোটের সম্ভাব্য হিসাবগুলো ডেমোক্র্যাটদের আসন বাড়ার দিকেই ইঙ্গিত করছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন ২১৪ ও রিপাবলিকানদের আসন ২১৮। ব্যবধান মাত্র কয়েকটি আসনের।

ভোটের আগেই নির্বাচনি ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্ক

নির্বাচনি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ট্রাম্পের আরেকটি কৌশল। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর থেকেই তিনি নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি সন্দেহ তৈরি করে আসছেন। 

এবারও  নির্বাচনি ব্যবস্থা ‘বিপজ্জনকভাবে উন্মুক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তিনি নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলেছেন।

চাথাম হাউস লিখেছে, ট্রাম্পের এই কৌশলের প্রভাব ইতোমধ্যেই জনমতের ওপর পড়ছে। মাত্র ৫৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন নভেম্বরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। অথচ চার বছর আগে এই হার ছিল ৮১ শতাংশ। ট্রাম্পের কৌশলে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থার পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

ভোটার পরিচয় ও পোস্টাল ভোটে নিয়ন্ত্রণ

নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ হলো 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট'। এই আইনে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ফটো আইডির মতো শর্ত আরোপের পাশাপাশি পোস্টাল ভোট সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে। বিলটি হাউসে পাস হলেও সিনেটে এখনও আটকে আছে।

চাথাম হাউস বলছে, নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত কঠোর শর্ত ভোটারদের এক অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি পোস্টাল ভোট সীমিত করার উদ্যোগও ডেমোক্র্যাটদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। 

পিউ রিসার্চ সেন্টার জানায়, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে বা অনুপস্থিত ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এবং ৩৮ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন করেছিলেন। 

কংগ্রেস হারালেও কি থামবেন ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসের জন্য হাউস বা সিনেট হারানো নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা হবে। ব্রুকিংসের বিশ্লেষণ বলছে, রিপাবলিকানরা যে কোনো একটি কক্ষ হারালে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পর্ব কার্যত থেমে যেতে পারে এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কংগ্রেসনাল তদন্ত শুরু হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার ক্ষমতা পাবে। প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও করপোরেট দাতাদের সম্পর্কের বিষয়টি আগে তদন্তের দাবি উঠতে পারে।

তাছাড়া কথিত ‘পে-টু-প্লে’ ব্যবস্থা এবং ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিদেশি সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বিনিয়োগের মতো বিষয়ও আসতে পারে। 

এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় থাকতে পারে।

এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষক বিল এমটের মতে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরে  আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নির্বাহী আদেশ, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং আদালতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন। এবারও তিনি ভেটো ক্ষমতা, নির্বাহী ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে নিজের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে চাইবেন।

সূত্র: সিএনএন, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, চাথাম হাউস ও এশিয়া টাইমস

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প

বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা হচ্ছে

বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা হচ্ছে

কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

রণক্ষেত্র ফ্রান্স, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ

রণক্ষেত্র ফ্রান্স, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম