প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে তিউনিসিয়ায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের নীতি ও শাসনের বিরুদ্ধে রাজধানী তিউনিসে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার (১৭ অক্টেবর) আয়োজিত এই বিশাল বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা দেশে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের জোরালো দাবি জানান।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিউনিসিয়ার প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘তিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন’ (ইউজিটিটি), বিভিন্ন সুশীল সমাজ সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের সদর দপ্তরের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর রাজপথে পদযাত্রা করার সময় সরকারবিরোধী তীব্র স্লোগান দেন এবং প্রেসিডেন্ট সাঈদের পদত্যাগ দাবি করেন।
এই প্রতিবাদ মিছিলে পিপলস মুভমেন্ট, আন-নাহদা আন্দোলন এবং ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টসহ তিউনিসিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও কর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের সামনে আয়োজিত সমাবেশে ইউজিটিটি-এর মহাসচিব সালাহ উদ্দিন সালমি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি সংলাপ বা আলোচনা পাশ কাটিয়ে চলে, তবে রাজপথ ও জনবহুল চত্বরগুলোই হয়ে উঠবে আলোচনার মূল মঞ্চ।
তিনি তিউনিসিয়ার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তিউনিসিয়াকে কোনো একক ব্যক্তির শাসনব্যবস্থা বা এমন কোনো সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া যায় না, যারা কেবল নিজেদের কথাই শোনে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মুনির জেলাসি নামের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মূলত দুটি প্রধান কারণে এই মিছিলে যোগ দিয়েছেন। প্রথমত, দেশে দিন দিন বাকস্বাধীনতার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর নানা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নিজ দেশেই স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

-6ad4c2c02836f.jpg)