ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভের মধ্যেই কেন উপসাগরীয় সফরে ম্যাক্রোঁ?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ সহিংস বিক্ষোভের মধ্যেই জরুরি খনিজ তেল ও ডিজেল সরবরাহের খোঁজে মধ্যপ্রাচ্য সফরে বেরিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) চার দিনের এই সফরের প্রথম ধাপে তিনি কুয়েত গিয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির আমীর শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ।
আগামী বুধবারের মধ্যে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারও পরিদর্শন করবেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করাই তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি ফ্রান্সে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং দুই হাজার পাঁচশরও বেশি মানুষ গ্রেফতার হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি ম্যাক্রোঁ। মধ্যপ্রাচ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সাধারণ মানুষের মূল উদ্বেগের জায়গা ছিল জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম। তাই দেশের সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর কমাতে সরাসরি আলোচনা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
সফরের প্রথম দিন কুয়েতে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ওমান থেকে ফ্রান্সের মালিকানাধীন দ্বীপ রেউনিওঁ ও মায়োতে দ্রুত কেরোসিন ও ডিজেল পৌঁছানো। ম্যাক্রোঁর এই সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি জ্বালানি জায়ান্ট ‘টোটাল-এনার্জিস’ ও ‘অঁজি’র শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাণিজ্য ও জ্বালানির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ফরাসি বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’ কুয়েত এয়ারওয়েজের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে।
মূলত গত আট মাস ধরে চলা মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি তেলের ট্যাঙ্কার ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট ‘জি-সেভেন’ তাদের জরুরি রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানির বাড়তি চাপ কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪

