প্যারিস শিগগিরই একটি মুসলিম নগরীতে পরিণত হবে: ট্রাম্প
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতা ও সংকটের জন্য দেশটির অভিবাসন নীতিকে দায়ী করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে নতুন করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, এভাবে চলতে থাকলে প্যারিস খুব দ্রুত একটি ‘মুসলিম নগরী’তে পরিণত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে ফরাসি সীমান্ত খোলা রেখে অবাধে মানুষকে ঢোকার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে ট্রাম্প আগে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তা উপেক্ষা করেছেন ম্যাক্রোঁ।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম নগরী হতে চলেছে, আর এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। আপনি পুরো বিশ্ব থেকে মানুষকে ঢোকার পথ খুলে দিয়েছেন। সারা পৃথিবীর মানুষ সেখানে চলে আসছে।’
ফ্রান্সের এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে ম্যাক্রোঁর শিথিল অভিবাসন নীতিকেই দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, তাদের প্রথম সাক্ষাতেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন তিনি।
এমন এক সময়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো, যখন ফ্রান্সজুড়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং জাতীয় পরিচয় ও অভিবাসন নীতি নিয়ে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
উত্তপ্ত ফ্রান্স
বেশ কিছুদিন ধরেই ফ্রান্সের একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সংঘাত ও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
সহিংসতার ঘটনায় বহু সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলোকে নিশানা করতে দেখা গেছে। এসব বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া সহস্রাধিক মানুষকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ধ্বংসযজ্ঞে জড়িতদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রান্স সরকার জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও দেশটিতে এখনও আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সংকট ও জনঅসন্তোষ সামলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গিয়ে চরম চাপে পড়েছে ম্যাক্রোঁ প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্রান্সের বর্তমান সংকটকে সরাসরি অভিবাসন নীতির ফল হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। তার মতে, খোলামেলা সীমান্ত নীতির কারণে ফ্রান্সের এই কঠিন দশা তৈরি হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের পেছনে কেবল অভিবাসন নীতিই একমাত্র কারণ নয়। অর্থনৈতিক মন্দা, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, সরকারি নাগরিক সেবার ওপর চাপ এবং তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ—সবকিছু মিলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
ডানপন্থি রাজনীতিবিদ ও আলোচকরা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার দাবি তুললেও, ফ্রান্সের মূল সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটগুলো এই অস্থিরতার পেছনে কতটা দায়ী, তা নিয়ে এখনও গভীর আলোচনা-বিশ্লেষণ চলছে।


-6ad62fefea667.jpg)