Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের জামাতার গোপন ব্যাংক হিসাব, ২ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন ঘিরে চাঞ্চল্যকর দাবি

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

ট্রাম্পের জামাতার গোপন ব্যাংক হিসাব, ২ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন ঘিরে চাঞ্চল্যকর দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত বিদেশি ব্যাংক হিসাব গোপনে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় কুশনারের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নজরদারি করেছিলেন ডাচ গোয়েন্দারা। তবে কুশনার এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরাইলের  শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গোপন আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়টি গোয়েন্দাদের নজরে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে নিজেদের স্বার্থ এগিয়ে নিতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়মের চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

কী আছে প্রতিবেদনে?

ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদের সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট থেকে নেওয়া একটি অংশের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডাচ গোয়েন্দারা গোপনে কুশনারের আইফোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সে সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের তথ্য তাদের নজরে আসে। ওই হিসাবে আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার জমা পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে ওয়াতানি আল এমারাত ফাউন্ডেশনের নামে থাকা একটি হিসাবে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই দাতব্য সংস্থার হিসাবটিতে কুশনারের স্বাক্ষর করার ক্ষমতা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তিনি ওই হিসাবের মালিক ছিলেন না।


হিসাবটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ, যিনি আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই।

প্রতিবেদনটির দাবি, তাহনুন বিন জায়েদ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এমন একটি গোপন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন, যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করা সম্ভব হতো। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলেও দুই আরব নেতা কুশনারের জন্য দুটি হিসাবে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার রেখেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ১ বিলিয়ন ডলার?

প্রতিবেদনে আরও একটি ব্যাংক হিসাবের কথা বলা হয়েছে, যেটি ব্যবহার করে সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ১ বিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ওই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অর্থটি ইসরাইলে জমা রাখার জন্য কুশনারকে উৎসাহিত করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ স্থানান্তর নিয়ে কুশনার ও নেতানিয়াহুর মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।


তবে এসব লেনদেন বা অভিযোগের বিষয়ে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি। প্রতিবেদনটিতে উত্থাপিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন তথ্যও দেওয়া হয়নি।

কুশনারের কড়া জবাব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার অভিযোগগুলোকে ‘ভয়াবহ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এমন কোনো ঘটনা কখনো ঘটেনি।

কুশনার লেখেন, এসব দাবি তিনি ও তার পক্ষ থেকে আগেই অস্বীকার করা হয়েছিল। অথচ লেখক অভিযোগের সমর্থনে কোনো ব্যাংক বিবরণী, অর্থ স্থানান্তরের নথি, হিসাব নম্বর, লেনদেনের তারিখ কিংবা যাচাইযোগ্য তথ্য দিতে পারেননি।


তিনি আরও বলেন, অভিযোগে উল্লেখিত সময়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নজরদারির মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। গণমাধ্যমের ব্যাপক অনুসন্ধানের পাশাপাশি কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এসব তদন্তে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করে ৩০ ঘণ্টার বেশি সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও জানান কুশনার।

তার ভাষ্য, ওই সময় এসব অভিযোগ সামনে আসেনি, কারণ ঘটনাগুলো কখনো ঘটেনি।

আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত

কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এগুলো ব্যাখ্যার ভিন্নতা কিংবা স্মৃতির অমিলের বিষয় নয়; বরং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যাংক হিসাবগুলোরই অস্তিত্ব নেই।

তার দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই এসব গুরুতর ও মানহানিকর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মিজেল জানান, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সব ধরনের সুযোগ বিবেচনায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘ট্রাম্প মহাসাগর’ চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ‘না’ করল গুগল

‘ট্রাম্প মহাসাগর’ চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ‘না’ করল গুগল

এফবিআইয়ের অভিযানের পর বাড়ি ছাড়ছেন ইলহান ওমর

এফবিআইয়ের অভিযানের পর বাড়ি ছাড়ছেন ইলহান ওমর

ট্রাম্পের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে যে ১০ আসন

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে যে ১০ আসন

ফের হামলা হলে ৭ দেশের এআই ও তেল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেবে ইরান

ফের হামলা হলে ৭ দেশের এআই ও তেল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেবে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য থেকে নীরবে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য থেকে নীরবে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

সন্তানসহ পালিয়ে যাওয়া সেই রুশ নারীকে ফিরে পেতে মরিয়া দিল্লি

সন্তানসহ পালিয়ে যাওয়া সেই রুশ নারীকে ফিরে পেতে মরিয়া দিল্লি

এবার আফ্রিকার এক দেশে বিক্ষোভ

এবার আফ্রিকার এক দেশে বিক্ষোভ

‘ট্রাম্প মহাসাগর’ চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ‘না’ করল গুগল

‘ট্রাম্প মহাসাগর’ চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ‘না’ করল গুগল

এফবিআইয়ের অভিযানের পর বাড়ি ছাড়ছেন ইলহান ওমর

এফবিআইয়ের অভিযানের পর বাড়ি ছাড়ছেন ইলহান ওমর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম