সুস্থ আছেন মোজতবা খামেনি, জনসমক্ষে আসছেন না কেন? যা জানালেন ইরানি কূটনীতিক
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাত ঘণ্টার বৈঠক করেছেন মোজতবা—এমন তথ্যও দিয়েছেন ওই কূটনীতিক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি এসব কথা বলেন।
প্রায় আট মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ওই হামলাতেই নিহত হন তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বাবার মৃত্যুর পরপরই সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পান মোজতবা। এরপর থেকে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন, জনসমক্ষে আসেননি।
গত জুলাইয়ে বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও মোজতবাকে দেখা না যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
‘সুস্থ আছেন, দায়িত্বও পালন করছেন’
এনডিটিভিকে আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি বলেন, মোজতবা খামেনি শারীরিকভাবে ভালো আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। গত সপ্তাহেই তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাত ঘণ্টার বৈঠক করেছেন বলে জানান এই কূটনীতিক।
তিনি বলেন, পার্লামেন্টের স্পিকারও মোজতবার সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তার পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি মোজতবার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তারা তার সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করেন ইলাহি।
মোজতবা তার বাবার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন না—এমন দাবিও নাকচ করেছেন এই কূটনীতিক। তার ভাষ্য, ওই সময় তিনি ইরানে ছিলেন এবং মোজতবার দুই ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মোজতবাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
ইলাহির আরও দাবি, কখনো কখনো মোজতবা রাতে রাস্তায় বের হন এবং ইরানে জনসাধারণের বিক্ষোভ-সমাবেশেও অংশ নিয়েছেন।
নিরাপত্তার কারণে আড়ালে থাকার দাবি
ইরানের কর্মকর্তারা ও দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, মোজতবা খামেনি এখনো রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছেন। নিরাপত্তার কারণে তিনি আড়ালে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। হামলায় তার চেহারায় গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে কয়েকটি সূত্রের দাবি রয়েছে। সুস্থ হয়ে ওঠার সময় তিনি দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্বের বড় অংশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন, বড় ধরনের সব প্রতিবেদন পাচ্ছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।
যুদ্ধ শুরুর আগেও মোজতবা তার বাবার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করতে পছন্দ করতেন। জনসমক্ষে আসার প্রবণতা তার কম ছিল।
গত ২১ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। তবে আগস্টের শুরুতে তিনি বলেন, মোজতবার সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুব কঠিন’ হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সম্পদ নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ব্যবহার এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ও ছিল।
এর আগে মে মাসে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, পেজেশকিয়ান মোজতবার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম প্রকাশ্যে আসা বৈঠকের খবর।
ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে তিনি বলেন, ইরানের যুদ্ধ পরিচালনা করছে কে, তা কেউ জানে না।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের প্রথম সারির নেতারা নিহত হয়েছেন, দ্বিতীয় সারির নেতারাও নেই। তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, দেশটি এখন কে পরিচালনা করছে, তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা চলছে। তবে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যে তাদের প্রকৃত কর্তৃত্ব কতটা, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, ইরানে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির মুখপাত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা ইরানের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের পরিচয় এবং দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের নেতৃত্ব, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসা এবং তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
