সমুদ্রের নিচের কেবল কেটে ফেললে কি অচল হয়ে পড়বে পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল কেটে গেলে মহাকাশের স্যাটেলাইট দিয়ে পুরো পৃথিবী সচল রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখন বড় আলোচনা চলছে। ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ কি পারবে বিশ্বকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের আলোয় রাখতে? এর সহজ উত্তর হলো, সংকটকালে স্টারলিংক জরুরি যোগাযোগ টিকিয়ে রাখতে পারবে ঠিকই, তবে সমুদ্রতলের বিশাল কেবল নেটওয়ার্কের বিকল্প হয়ে ওঠার ক্ষমতা এর নেই।
আমাদের আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদানের ৯৯ শতাংশই ঘটে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে যাওয়া ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১৭ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্কে নানা কারণে প্রতি বছর প্রায় ২০০টির মতো দুর্ঘটনা ঘটে। একটি কেবল কাটা পড়লেই লাখ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সংকটে পড়েন এবং দেশের আন্তর্জাতিক ডাটা চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
কেবল ও স্যাটেলাইটের এই ক্ষমতার তফাত বোঝা যায় সাধারণ অঙ্কের হিসাব থেকেই। সমুদ্রের একটি সাধারণ কেবল দিয়ে যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০ টেরাবিট বা ২০ হাজার গিগাবিট তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, তবে একটি ব্যাকআপ স্যাটেলাইট দিয়ে হয়তো যায় মাত্র ১ গিগাবিট। অর্থাৎ তথ্য সরানোর ক্ষমতায় কেবুলটি স্যাটেলাইটের চেয়ে প্রায় ২০ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। ফলে একটি মাত্র কেবলের সমপরিমাণ গতি বজায় রাখতে একই সঙ্গে হাজার হাজার স্যাটেলাইট লিংক চালু রাখতে হবে, যা বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়।
সমুদ্রের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল মেরামত করতে অনেক সময় কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যায়। এই চরম সংকটের সময়ে স্টারলিংক বা অন্যান্য স্যাটেলাইট মূলত একটি বিকল্প নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। এই প্রযুক্তি দুর্যোগের সময় হাসপাতাল, সরকারি জরুরি সেবা, সীমিত আর্থিক লেনদেন এবং বার্তা আদান-প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু পুরো জনগোষ্ঠীর একসাথে উচ্চমানের ভিডিও দেখা, বড় ডাটা ফাইল স্থানান্তর কিংবা বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক ডাটা চাহিদা মেটানো স্যাটেলাইটের পক্ষে অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে হলে শুধু স্যাটেলাইটের ওপর ভরসা করলে চলবে না। সমুদ্রের তলদেশের কেবল, মাটির নিচের ফাইবার এবং মহাকাশের স্যাটেলাইট—এই তিন প্রযুক্তির যৌথ সমন্বয়েই কেবল বড় ধরনের ডিজিটাল বিপর্যয় এড়িয়ে পুরো বিশ্বকে সচল রাখা সম্ভব।
সূত্র: গালফ নিউজ

