আল-জাজিরার বিশ্লেষণ
ইউরোপে কি দিন দিন ইসলামবিদ্বেষ বেড়েই চলেছে?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে অভিবাসী ও মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় গাড়ি থেকে এক বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে। এই হামলায় এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ নিহত এবং ১২ বছরের এক শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ফরাসি সরকার এই ঘটনাকে একটি বর্ণবাদী ও সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্সে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ চলছে, তার মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালের দিকে হামলাকারী ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে রাস্তায় পেট্রোল পাম্প, হাসপাতাল এবং শিশুদের খেলার মাঠ লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পুরনো একটি বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে। প্রায় ১৫ মিনিট তাণ্ডব চালানোর পর ৩৯ বছর বয়সি হামলাকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে হামলাকারী স্বীকার করেছে যে সে মূলত ফ্রান্সে থাকা বিদেশিদের মেরে ফেলতে চেয়েছিল।
হামলায় আহত ১২ বছরের শিশুটির গায়ে আটটি গুলি লেগেছে। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। হিজাব পরা শিশুটির মা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া একটি ছোট্ট শিশুর ওপর কীভাবে এমন নির্দয় হামলা হতে পারে, তা তিনি ভেবে পাচ্ছেন না। তার ধারণা, হিজাব পরা এবং গায়ের রঙের কারণেই তার সন্তানকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়েছে।
ঘটনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছেন যে, উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকদের বিদ্বেষমূলক কথার কারণেই সমাজে চরমপন্থা ও ইসলামভীতি ছড়াচ্ছে। তাদের বিষাক্ত বক্তব্যের খেসারত দিতে হচ্ছে নির্দোষ মানুষদের।
শুধু ফ্রান্স নয়, পুরো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মুসলিমদের ওপর বর্ণবাদী আক্রমণ ও বৈষম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপে বসবাসকারী প্রতি দুইজন মুসলিমের একজন নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্যারিসের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি তাই পুরো বিশ্বকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

