রাশিয়ায় ‘পক্ষাঘাতগ্রস্ত’ পুরুষদের জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাশিয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধে সেনাসংখ্যা বাড়াতে দুর্বল, অসুস্থ ও অসহায় পুরুষদের লক্ষ্য করে জোরপূর্বক সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন, সামরিক আইনজীবী ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে সেনা নিয়োগের পাশাপাশি দেশটিতে ক্রমেই বাড়ছে ভয়ভীতি, প্রতারণা ও জবরদস্তির আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সেনা নিয়োগব্যবস্থায় এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। সম্মুখযুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন সেনা নিয়োগে চাপের কারণে কর্তৃপক্ষের ওপর জনবল সংগ্রহের চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রতিবেদনে পশ্চিম রাশিয়ার একটি শহরের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তার এক স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অসুস্থ ছিলেন, রক্তনালির সমস্যা ও মদ্যপানের অভ্যাস ছিল এবং ঠিকমতো হাঁটতেও পারতেন না। গত জুলাইয়ে কয়েকজন সাদাপোশাকধারী ব্যক্তি তাকে বাড়ির সামনে থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরে একটি কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়, যেটিকে প্রথমে উপস্থিতির নোটিশ বলা হলেও সেটি ছিল সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তি।
ওই ব্যক্তি বাড়ি ফেরার এক সপ্তাহ পর নিখোঁজ হন। কয়েক দিন পর তিনি ফোন করে জানান, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তার পরিবারের কাছে তিনি যুদ্ধে নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর আসে।
এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কাজ করা রুশ সামরিক আইনজীবী আরতেম ক্লিগা সিএনএনকে বলেন, গ্রীষ্মের শুরু থেকে জোরপূর্বক সেনা নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর মতে, ঋণগ্রস্ত, অসুস্থ ও মদ্যপানের সমস্যায় থাকা পুরুষেরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন।
রাশিয়ার পেনজা অঞ্চলেও গত জুনে জোরপূর্বক সেনা নিয়োগের অভিযোগ সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নিয়োগকেন্দ্রের সামনে কয়েকজন নারী বাসে থাকা পুরুষদের ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন সেনা নিয়োগে সহায়তাকারীদের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। রিয়াজান অঞ্চলের গভর্নর পাভেল মালকভ গত বছর জানিয়েছিলেন, চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগে সহায়তাকারীরা প্রতি নিয়োগের জন্য ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ রুবল পর্যন্ত পেতে পারেন।
জার্মানির নিরাপত্তা বিশ্লেষক জানিস ক্লুগের মতে, এসব ঘটনা সরাসরি ক্রেমলিনের নির্দেশে ঘটছে— এমন প্রমাণ নেই। তবে জনবল সংকট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ এমন কর্মকাণ্ডকে সহ্য করতে পারে।

