ব্রেক্সিট নিয়ে কেন এত বিতর্ক!

  যুগান্তর ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

ব্রেক্সিট নিয়ে কেন এত বিতর্ক!
ছবি: সংগৃহীত

ব্রেক্সিট শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে। তখন থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিটেনের আলোচনা চলছে।

এসব আলোচনায় মূল ইস্যু হচ্ছে- বিচ্ছেদ চুক্তি। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেন কীভাবে বেরিয়ে আসবে। এর পর কী ঘটবে- এটি কোনো আলোচ্য বিষয় নয়।

এতে বলা হয়েছে, অংশীদারত্ব থেকে সরে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে ব্রিটেনকে। বিচ্ছেদের আগে বিভিন্ন সময় সম্মত হওয়া আর্থিক এ দায় তিন হাজার ৯০০ কোটি পাউন্ডের মতো হবে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাস করা ব্রিটিশ নাগরিকদের ভাগ্যে কী ঘটবে। পাশাপাশি ব্রিটেনে বাস করা অন্য ইউরোপীয় দেশের নাগরিকদের কী হবে- চুক্তিতে তাও বলা হয়েছে। এতে ব্রিটেনে বাস করা ইউরোপীয় নাগরিক ও ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা ও অবাধ চলাচলে ইতি ঘটবে।

তেরেসা মের চুক্তি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে- ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার পরও নিজেদের কর্মকাণ্ডে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এ চুক্তি ব্যর্থ হবে।

সংকটটির মূলে রয়েছে আইরিশ সীমান্ত। সেখানে তল্লাশিচৌকি ও প্রহরীদের ফাঁড়ি ফিরে আসুক, তা ইউরোপ ও ব্রিটেন কেউ চাচ্ছে না। এটিকে ব্যাকস্টপ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যা এ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।

আয়ারল্যান্ড দ্বীপে সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার শেষ আশ্রয় হিসেবে রাখা হয়েছে এই ব্যাকস্টপকে। সেক্ষেত্রে সবকিছু নিশ্চিত করে ইউরোপ ছাড়ছে না ব্রিটেন।

বর্তমানে হালকা বিধিনিষেধ মেনে উত্তর আয়ারল্যাণ্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে পণ্য ও সেবা বিনিময় হয়।

ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ড দুই দেশ ইউরোপীয় একক মার্কেট, কাস্টমস ইউনিয়নের অংশ। কাজেই কাস্টমসে পণ্য আমদানিতে কোনো পরীক্ষার দরকার পড়ে না।

কিন্তু ব্রেক্সিটের পর সবকিছু বদলে যেতে পারে। আয়ার‌ল্যান্ডের দুই পাশে ভিন্ন কাস্টমস ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হতে পারে। তার অর্থ দাঁড়ায় সীমান্তে দুই দেশের পণ্য পরীক্ষা বা তল্লাশির মুখে পড়বে।

ব্রিটিশ সরকার এমনটা চায় না। ইউরোপও বলছে, তারা সীমান্তকে কঠোর করতে চাচ্ছে না।

উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ৩১০ মাইলের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এতে প্রায় ২৭৫টি ক্রসিং পয়েন্ট রয়েছে। বিষয়টি এভাবেও বলা যায়, পুরো সীমান্তটিই হচ্ছে একটি ক্রসিং পয়েন্ট।

সড়ক চিহ্ন ছাড়া এতে কোনো অবকাঠামো নেই বললেই চলে। এখানে উদ্বেগের কারণটি হচ্ছে- যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ ঘটছে, তখন আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুসারে এ সীমান্ত থেকে সব নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ চুক্তি মোতাবেক এ সীমান্ত উন্মুক্ত থাকারই কথা।

এর অর্থ হচ্ছে- উত্তর আয়ারল্যান্ড খাদ্য উৎপাদনসহ বেশ কিছু বিষয়ে ইউরোপীয় নীতি অনুসরণ করবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে জোর দিয়ে বলেন, যদি সব কিছু পরিকল্পনামাফিক ঘটে, তা হলে এটি কখনই ব্যবহার হবে না।

ইউরোপের সঙ্গে দুই বছরের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না হলে পণ্য চলাচল ও শুল্ক আরোপের বিষয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হবে, তা এড়াতে ব্যাকস্টপ ব্যবহার করা হবে।

তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন ও শ্রম ও পরিবেশবিষয়ক মানসমূহ মেনে চলতে হবে।

এ বিষয়টিই ব্রিটিশ এমপিদের বিরক্ত করেছে। তাদের ক্ষোভ হচ্ছে- ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমতি ছাড়া ব্রিটেন এটি বন্ধ করতে পারছে না।

ঘটনাপ্রবাহ : ব্রেক্সিট ইস্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×