Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে এক গ্রামেই ৯০০ শিশু এইডসে আক্রান্ত

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:০৭ পিএম

পাকিস্তানে এক গ্রামেই ৯০০ শিশু এইডসে আক্রান্ত

Advertisement

পরিবারের কেউ এইডসে আক্রান্ত না হলেও পাকিস্তানে ছোট্ট একটি গ্রামের প্রায় ৯০০ শিশুর দেহে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।  

এ বছরের এপ্রিলে সেখানকার একজন স্থানীয় চিকিৎসক তার ক্লিনিকে আসা শিশুদের উপসর্গ দেখে সন্দেহ হলে এইচআইভি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। খবর বিবিসির।

পরে আট দিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি আছে বলে জানা যায়।

শুধু পাকিস্তানেই নয়, এশিয়াতেও এত মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে একসঙ্গে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নজির নেই বললেই চলে।

এ ছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়সই ১২ বছরের কম হওয়ায় বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ করার অভিযোগ আনা হয় ডা. মুজাফফর ঘাঙরোর বিরুদ্ধে। এর পর তাকে গ্রেফতার করা হয় অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে।

তবে কোনো অপরাধ করেননি দাবি করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ভীষণ চাপের মুখে ছিল। তাদের অযোগ্যতার দায় চাপাতে বলির পাঁঠা হই আমি।

কয়েক সপ্তাহ পর পাকিস্তান সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হওয়া এক তদন্তের পর ডাক্তার ঘাঙরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তার দায়িত্বে অবহেলার মাত্রা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

ডা. ঘাঙরো বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি চিকিৎসা পেশায় আছি। এখন পর্যন্ত একজনও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেনি যে আমি সুই পুনর্ব্যবহার করেছি।

আমি স্থানীয়দের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়ও। তাই পেশাগত হিংসা থেকে অন্য ডাক্তার এবং সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ এনেছে।’

ডা. ঘাঙরোর ক্লিনিক থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে শুভানা খান গ্রামে ৩২ শিশু এইচআইভি আক্রান্ত। এই শিশুদের পরিবারের কোনো সদস্যেরই এইচআইভি ছিল না। তাদের অবস্থা উন্মাদপ্রায়। তাদের সন্তানরা অপুষ্টিতে ভুগছে আর ক্রমাগত কাঁদছে।

এক শিশুর মা বলেন, ‘আমার সন্তানের ওজন মেপে তাকে ভিটামিন দিতে বলি আমি। তারা আমাকে বলে যে, তারা শুধু ওষুধের সুপারিশ করতে পারবে, যা আমার নিজের টাকা দিয়ে কিনতে হবে। কিন্তু আমার এত দামি ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই।’

পাকিস্তানের সরকার এইচআইভির ওষুধ যদিও বিনামূল্যে দিচ্ছে, কিন্তু অধিকাংশ রোগীরই এইচআইভির প্রভাবে শরীরে অন্য যেসব রোগের সংক্রমণ হয়ে থাকে সেগুলোর ওষুধের খরচ বহন করতে পারেন না।

এদিকে সমাজের মানুষের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তদের সম্পর্কে মনোভাব শিশুদের অভিভাবকদের যন্ত্রণা দিচ্ছে। এক শিশুর মা বলেন, মানুষ আমাদের সন্তানদের ঘৃণা করে। এমনকি আমাদেরও এড়িয়ে চলে, তাদের বাসায় যেতে বারণ করে।

তিনি বলেন, গ্রামের স্কুলও চায় না যে তাদের শিশুরা সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাক।

জাতিসংঘের ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে এইচআইভির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব থাকা ১১ দেশের একটি পাকিস্তান। কিন্তু সেখানে যে পরিমাণ মানুষের এইচআইভি রয়েছে, তাদের অর্ধেকের বেশিসংখ্যক মানুষ জানেই না যে তাদের এইচআইভি পজিটিভ।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় পাকিস্তানে বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

এশিয়ার মধ্যে ফিলিপাইনের পর পাকিস্তানেই দ্রুততম হারে এইডস ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান পাকিস্তানে ইউএন এইডসের পরিচালক এলেনা বরোমেয়ো।

Advertisement

এইডসে আক্রান্ত ৯০০ শিশু

Advertisement

আরও পড়ুন

ইমরান খানের মুক্তির লড়াইয়ে রাজপথে নতুন মুখ

ইমরান খানের মুক্তির লড়াইয়ে রাজপথে নতুন মুখ

ইরানের বিমান জব্দ করল তুরস্ক

ইরানের বিমান জব্দ করল তুরস্ক

স্যাটেলাইটে গাজার ভয়াবহ চিত্র ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে আগুন, ভাঙচুর

ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরে আগুন, ভাঙচুর

ফের অশান্ত অরুণাচল সীমান্ত, প্রাণ হারালেন ভারতীয় সেনা

ফের অশান্ত অরুণাচল সীমান্ত, প্রাণ হারালেন ভারতীয় সেনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম