Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ভারতের সংসদে পেশ হলো বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:০১ পিএম

ভারতের সংসদে পেশ হলো বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল

Advertisement

বিরোধীদের প্রতিবাদ ও টানটান উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পেশ হল বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল। বুধবার  সংসদের নিম্নকক্ষে এই বিলটি পেশ করেন দেশটির সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। 

এরপর ৮ ঘণ্টা ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে উভয় কক্ষে। তারপর এটির ওপর ভোটাভুটি হবে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াকফ বিল নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেখানেও বিরোধী সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও লোকসভায় পেশ হল ওয়াকফ সংশোধনী বিল। 

বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই সংশোধনী সংখ্যালঘুদের অধিকারের পরিপন্থি। সরকার ওয়াকফ সম্পত্তির উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। তবে বিজেপি সরকারের মতে, এই সংশোধনী বিলের মাধ্যেমে বেআইনি দখল রোধ করা সম্ভব হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

বিলটি ‘অসাংবিধানিক এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী’ বলে অভিযোগ তুলে বিরোধীরা একযোগে তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কংগ্রেস, তৃণমূলসহ বিরোধীদের অভিযোগ, ৪৪টি সংশোধনী এনে ওয়াকফ বোর্ডের উপর সরকারি কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

বর্তমান ওয়াকফ আইনের ৪০ নাম্বার ধারা অনুযায়ী, যে কোনো সম্পত্তিকে ওয়াকফ হিসাবে ঘোষণার অধিকার এত দিন ছিল ওয়াকফ বোর্ডের হাতেই। ফলে ওয়াকফ বোর্ডের বিরুদ্ধে বারবার বহু গরিব মুসলিমের সম্পত্তি, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ব্যক্তির সম্পত্তি অধিগ্রহণের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি সরকার। 

নতুন সংশোধনীতে ওয়াকফ বোর্ডের সেই একচ্ছত্র অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনো সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে জেলাশাসক বা সমপদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার হাতে। 

সরকারের যুক্তি, বর্তমানে যে আইন রয়েছে, তাতে ওয়াকফের দখল করা জমি বা সম্পত্তিতে কোনোভাবেই পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকে না। কারও আপত্তি সত্ত্বেও জমি বা সম্পত্তি দখল করতে পারে ওয়াকফ বোর্ড। তাতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকে না সরকারের। নতুন বিলে তার বন্দোবস্ত রয়েছে।

এর পাশাপাশি আপত্তি উঠেছে নতুন বিলে ওয়াকফ বোর্ডে দুই অমুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বন্দোবস্ত নিয়েও। এ ছাড়া রয়েছে, একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব। 

প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালে প্রথম ওয়াকফ আইন পাশ হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে ওয়াকফ আইনে সংশোধনী এনে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। তার পর থেকেই বিজেপির তরফে বার বার প্রশ্ন তোলা হয়েছে ‘বোর্ডের একচ্ছত্র অধিকার’ নিয়ে। 

বিজেপির দাবি, ওয়াকফ সম্পত্তির সব সুবিধা ভোগ করছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মুসলিমরা। নতুন আইন কার্যকর হলে সাধারণ মুসলিমরা উপকৃত হবেন।তবে ভারতের সব মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো এর বিরোধীতা করছেন। 

Advertisement

ওয়াকফ সংশোধনী বিল ভারত

Advertisement

আরও পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করলেন ম্যাক্রোঁ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করলেন ম্যাক্রোঁ

গ্রিসের ফিলিস্তিনপন্থি এলাকায় বাড়ি কিনছে ইসরাইলিরা

গ্রিসের ফিলিস্তিনপন্থি এলাকায় বাড়ি কিনছে ইসরাইলিরা

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে মেজরসহ নিহত ৫

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে মেজরসহ নিহত ৫

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম