Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

তওবাকারী ব্যর্থ নাকি সফল?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

তওবাকারী ব্যর্থ নাকি সফল?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

মানুষের জীবনে যখন পতন আসে— তখন কেউ নৈতিকভাবে ভেঙে পড়ে, কেউ গুনাহে ডুবে যায়, কেউ আল্লাহ থেকে দূরে সরে যায়। দুনিয়ার চোখে এটি ব্যর্থতা; কিন্তু ইসলাম বলে—সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা গুনাহ করা নয়, বরং গুনাহের পর ফিরে না আসা। যে ব্যক্তি চোখের পানি, ভাঙা হৃদয় আর অনুতপ্ত আত্মা নিয়ে আল্লাহর দরজায় ফিরে আসে—সে-ই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিরে আসা ব্যক্তি।

আল্লাহর রহমত: তওবার দরজা কখনো বন্ধ হয় না

আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন—

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا

‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আজ-যুমার: আয়াত ৫৩)

এই আয়াত প্রমাণ করে— গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।

নবীজি (সা.)-এর ঘোষণা: তওবাকারী আল্লাহর প্রিয়

নবীজি (সা.)-এর হাদিস প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কাছে মর্যাদা নির্ধারিত হয় গুনাহ দিয়ে নয় বরং তওবা দিয়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ

‘আদম সন্তানের সবাই গুনাহগার; আর গুনাহগারদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা— যারা বেশি বেশি তওবা করে।’ (তিরমিজি ২৪৯৯)


তওবা: দুর্বলতার নয়, সাহসের পরিচয়

অনেকে ভাবে— তওবা মানে দুর্বলতা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে— তওবা দুর্বলতা নয় বরং তওবা করা হলো গুনাহগারের সাহসের পরিচয়। মূলত দুর্বলতা হলো গুনাহ করে লুকিয়ে থাকা। প্রকৃত সাহসী হলো গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।  নবীজি (সা.)বলেছেন—

قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ حَيْثُ يَذْكُرُنِي وَاللَّهِ لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ يَجِدُ ضَالَّتَهُ بِالْفَلاَةِ وَمَنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَمَنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا وَإِذَا أَقْبَلَ إِلَىَّ يَمْشِي أَقْبَلْتُ إِلَيْهِ أُهَرْوِلُ

‘আল্লাহ রাববুল আলামিন ইরশাদ করেছেন— আমার প্রতি বান্দার বিশ্বাসের অনুরূপই (আমার প্রতি বান্দার ধারণা মোতাবেক আমি তার সঙ্গে আচরণ করি)। সে যখন যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সঙ্গে আছি। মরু বিয়াবানে তোমাদের কেউ হারানো (বাহন) পশু পাওয়ার পর যে পরিমাণ খুশী হয় আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবার পর এর থেকেও অধিক খুশী হন। যদি কেউ এক বিঘত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে তবে আমি তার প্রতি একহাত এগিয়ে যাই। যদি কেউ একহাত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে, তবে আমি এক বাগ (দুই বাহু ডানে বামে প্রসারিত করলে যে দূরত্ব হয়) পরিমাণ তার দিকে এগিয়ে যাই। যদি কেউ আমার দিকে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে ছুটে যাই।’ (মুসলিম ৬৭০০)

ভাবুন—আপনি যখন আল্লাহর দিকে এক বিঘত যান, আল্লাহ আপনাকে একহাত এগিয়ে গিয়ে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে নেন।

তওবা শুধু ক্ষমা নয়, নতুন জীবন

তওবা সবচেয়ে বড় ফিরে আসা- অর্থাৎ তওবা শুধু গুনাহ মুছে যাওয়া নয় বরং গুনাহ নেকিতে রূপান্তর হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ

‘যারা তওবা করে, ইমান আনে ও সৎকাজ করে— আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে নেকিতে রূপান্তর করে দেন।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৭০)

পৃথিবী হয়তো গুনাহ করা মানুষকে বাতিল করে দেয়, কিন্তু আল্লাহ কখনো তওবাকারী বান্দাকে বাতিল করেন না। যে ব্যক্তি অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে আসে, যে ব্যক্তি পাপ ছেড়ে সেজদায় ফিরে যায়— সে ব্যর্থ নয়, সে সফল। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিরে আসা হলো— গুনাহ ছেড়ে তওবা করে আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে খাঁটি তওবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম