Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শ

Advertisement

Icon

মমতাজ উদ্দিন আহমদ

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শ

ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শ। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যার মৌলিক শিক্ষা মানবজাতিকে শান্তি, ন্যায় ও মর্যাদার পথে পরিচালিত করে। এটি শুধু ধর্মীয় রীতিনীতির বরং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা প্রদান করে।

তাওহিদের দর্শন মানব মর্যাদার ভিত্তি : ইসলামের কেন্দ্রীয় শিক্ষা তাওহিদ-আল্লাহর একত্ববাদ। যা মানবসমাজে মৌলিক সমতার ভিত্তি স্থাপন করে। পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে ‘হে মানুষ! তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (সূরা আন-নিসা : ১।) এ দর্শন বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব, বর্ণবাদ ও জাতিগত বিভেদের মূলোৎপাটন করে। সব মানুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টি-এ চেতনা সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।

ইসলামে নৈতিকতা : রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভাষায় ‘তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যার চরিত্র সর্বশ্রেষ্ঠ।’ ইসলাম নৈতিকতাকে ইমানের অঙ্গীকার করে। সততা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া ও ক্ষমা-এ গুণগুলো ইসলামি শিক্ষার কেন্দ্রীয় বিষয়। পবিত্র কুরআন অসংখ্য আয়াতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয় : ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন।’ (সূরা আন-নাহল : ৯০।)

ইসলামে সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব : ইসলামের মানবিক দর্শন শুধু মুসলিমদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য। রাসূল (সা.) বলেছেন : ‘সব সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক প্রিয় যে তার পরিবারের সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ করে।’ এ বিখ্যাত হাদিস ইসলামের সার্বজনীন মানবিকতার দর্শনকে brilliantly প্রকাশ করে।

ইসলামে নারীর অধিকার : ইসলাম নারীদের মর্যাদা ও অধিকারে যুগান্তকারী সংস্কার এনেছে। যেমন-সম্পত্তিতে নারীর উত্তরাধিকার সুরক্ষিত। শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত। বৈবাহিক সম্মতি বাধ্যতামূলক। আত্মমর্যাদার আইনি সুরক্ষা। রাসূল (সা.)-এর ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা : ‘নারীদের তোমাদের ওপর অধিকার রয়েছে, যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে তাদের ওপর।’

সামাজিক ন্যায়বিচার, কর্তব্য ও দায়িত্ব : ইসলাম সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ইমানের অংশ করে। যেমন : জাকাতব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য, দান-সদকার মাধ্যমে সম্পদের পুনর্বণ্টন, এতিম, অসহায় ও বিধবাদের অধিকার সুরক্ষা এবং দাসমুক্তির জন্য উৎসাহ ও প্রতিদান।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : ‘তাদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আয-জারিয়াত : ১৯।)

ইসলামে জ্ঞানচর্চা বাধ্যতামূলক : ইসলাম জ্ঞানার্জনকে নারী-পুরুষ সবার জন্য ফরজ ঘোষণা করে। রাসূল (সা.)-এর বাণী : ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ।’ নবীজির এ নির্দেশনা মধ্যযুগে ইসলামি সভ্যতাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পথিকৃৎ করেছিল।

ইসলামে পরিবেশ সুরক্ষা : ইসলামে পরিবেশ সংরক্ষণ আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব। ইসলামে পানির অপচয় নিষেধ, বৃক্ষরোপণে উৎসাহ ও প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন : ‘যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়ও তোমার হাতে চারা গাছ থাকে, তবে সেটি রোপণ কর।’

ইসলামে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি : মদিনার সনদ পৃথিবীতে প্রথম লিখিত সংবিধান, যেখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর অধিকার সুরক্ষিত হয়। পবিত্র কুরআনে ঘোষণা : ‘তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার।’ (সূরা আল-কাফিরুন : ৬।)

ইসলামে অর্থনৈতিক ভারসাম্যের দর্শন : ইসলামি অর্থনীতি সুদমুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিক সাম্যতা প্রতিষ্ঠা করে। মুনাফাখোরি, গরিবদের শোষণ ও অর্থের কেন্দ্রীভূতকরণ নিষেধ করে।

ইসলামের চিরন্তন ও সার্বজনীন বার্তা : ইসলামের মৌলিক শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা ভৌগলিক অংশের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। এর নৈতিকতা, মানবিকতা ও সমাজ সংস্কারের বার্তা সার্বজনীন এবং চিরন্তন। এটি মানুষের আত্মিক শুদ্ধিকরণ, সামাজিক সংস্কার এবং আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার এক মৌলিক নির্দেশনা। বর্তমান বিশ্বের দ্বন্দ্ব, অবিচার এবং নৈতিক অবক্ষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামের এ শিক্ষাগুলো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। এটি আমাদের স্মরণ করে দেয় আমাদের মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব এবং পরিবেশগত তত্ত্বাবধানের কথা।

ইসলামের সুন্দর শিক্ষাগুলোই পারে ব্যক্তিগত স্তর থেকে বিশ্বস্তর পর্যন্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গঠনে অপরিহার্য অবদান রাখতে। আসুন, আমরা এ মহান শিক্ষাগুলো আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে একটি উন্নত পৃথিবী গড়ার প্রচেষ্টায় অংশ নিই।

লেখক : সভাপতি, আলীকদম প্রেস ক্লাব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম