Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

‘শবেবরাত’ নিয়ে যে ফতোয়া দিল আরব আমিরাত

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ এএম

‘শবেবরাত’ নিয়ে যে ফতোয়া দিল আরব আমিরাত

শবেবরাত নিয়ে আরব আমিরাতের ফতোয়া। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ‘শবেবরাত’ নামে পরিচিত। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বে এ রাতকে বলা হয় লাইলাতুল বরাত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। হাদিসেও এই রাতকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশ ও অঞ্চলভেদে শাবান মাসের এই মধ্যরাত পালনের ধরনে ভিন্নতা দেখা যায়। বাংলাদেশে এ রাতে হালুয়া-রুটি প্রস্তুত করা, ঘরে ঘরে ও মসজিদে নফল ইবাদতে অংশ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শাবান মাসের মধ্যরাত উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ‘হাগ আল লায়লা’ উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে মানুষ একে অপরকে উপহার দেন। শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি চেয়ে বেড়ায় এবং রমজানের আগমনের আগে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

শাবান মাসের মধ্যরাত উপলক্ষে আমিরাতের এই উদযাপনকে শরিয়তসম্মত ও বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ফতোয়া কাউন্সিল। রোববার দেওয়া এক ব্যাখ্যায় কাউন্সিল জানায়, শরিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ করে ‘হাগ আল লায়লা’ উদযাপনে কোনো বাধা নেই। বরং এ রাতে উপহার আদান-প্রদান ও আনন্দ ভাগাভাগি পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে।

প্রতি বছর রমজান শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে, শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতে আমিরাতজুড়ে ‘হাগ আল লায়লা’ উদযাপন করা হয়। এটি দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি সামাজিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত।

ফতোয়া কাউন্সিল ব্যাখ্যা করে জানায়, ‘হাগ আল লায়লা’ একটি সামাজিক রীতি, যার মূলনীতি হলো বৈধতা। কারণ, দুনিয়াবি রীতিনীতি সম্পর্কে ইসলামের মৌলিক বিধান হলো অনুমোদন। এ ছাড়া শরিয়ত যেসব বিষয়ে নীরব থেকেছে, সেগুলো ক্ষমাযোগ্য বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

‘হাগ আল লায়লা’র একটি পরিচিত দৃশ্য হলো—শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘আতুনা হাগ আল লায়লা’ বলে মিষ্টি চাওয়া। এই ঐতিহ্য রমজানের আগমনের আগে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও শাবান মাসের মধ্যরাতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ফতোয়া কাউন্সিল। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া এবং দান-সদকার মাধ্যমে এ রাত কাটানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাহাবি, তাবেয়ি ও পরবর্তী বহু আলেম এই রাতের ফজিলত বর্ণনা করেছেন বলেও জানানো হয়।

আলেমদের মতে, শাবান মাসের এই মধ্যরাত একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে তেমনি আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের এক অনন্য সুযোগ। তাই পরিবার ও সমাজের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের লক্ষ্যে এই রাত যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমিরাতে চলতি বছর হাগ আল লায়লা উদযাপন করা হয়েছে সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম