অনিচ্ছায় গলার ভেতর পানি ঢুকলে কি রোজা ভাঙে?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
গলার ভেতর পানি ঢুকলে কি রোজা ভাঙে? ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজান মাসে রোজা রাখার সময় একজন মুসলমান শুধু পানাহার থেকেই বিরত থাকেন না; বরং এমন সব কাজ থেকেও নিজেকে সংযত রাখেন, যাতে অনিচ্ছায় হলেও রোজার ক্ষতি না হয়ে যায়। রোজা সহিহভাবে আদায় করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অজু বা গোসলের সময় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়ার সময় যদি অসাবধানতাবশত পানি গলার ভেতরে চলে যায়, তাহলে রোজার কী হবে?
যদিও বিষয়টি দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ ঘটনা, তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এর স্পষ্ট ও নির্ধারিত বিধান রয়েছে। হাদিসে রোজা অবস্থায় অজু ও গোসলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফিকহের কিতাবগুলোতে এ বিষয়ে আলেমদের মতামত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই রোজা শুদ্ধভাবে আদায় করতে এ মাসায়ালাটি জানা অত্যন্ত জরুরি।
চলুন জেনে নিই—অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর পানি চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে কিনা।
ইসলামি স্কলারদের অভিমত
ইসলামি স্কলারদের বক্তব্য অনুযায়ী, অজু বা গোসলের সময় রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি গলার ভেতরে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং তা কাজা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সাহাবি লাকিত ইবনে সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
بَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا
‘তোমরা (অজু ও গোসলের সময়) নাকে ভালোভাবে পানি দেবে; তবে রোজা অবস্থায় নয়।’ (আবু দাউদ ২৩৬৩, তিরমিজি ৭৮৫)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজা অবস্থায় অজু বা গোসলের সময় নাকে পানি দেওয়া ও কুলি করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।
ফিকহের গ্রন্থে আলেমদের মতামত
প্রখ্যাত তাবেয়ি ও মুহাদ্দিস হজরত সুফিয়ান সাওরি (রাহ.) বলেন— ‘রোজা অবস্থায় কুলি করতে গিয়ে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতরে পানি চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং তা কাজা করতে হবে। অজু ফরজ নামাজের জন্য হোক কিংবা নফল নামাজের জন্য—উভয় ক্ষেত্রেই একই বিধান প্রযোজ্য।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক ৭৩৮০)
সংক্ষিপ্ত কথা
রোজা অবস্থায় অজু বা গোসল করা জায়েজ হলেও কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার সময় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। কেননা রোজার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও যদি পানি গলার ভেতরে প্রবেশ করে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে তা কাজা করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রোজার মাসায়ালা ভালোভাবে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের রোজা কবুল করুন। আমিন।

