কষ্টের কারণে তারাবিহ নামাজ কম পড়া যাবে কি?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
তারাবিহ নামাজ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনেক সময় রোজা রাখতে গিয়ে অনেকেই অত্যান্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যার কারণে মাঝেমধ্যে পুরো তরাবিহর নামাজ পড়া সম্ভব হয় না। এখন প্রশ্ন হল— তরাবিহর নামাজ না পড়লে কি ফরজ তরকের মতো গুনাহ হবে কিনা?
তারাবিহর নামাজ বিশ রাকাত পড়া সুন্নতে মুআক্কাদা। তবে অনেক বেশি কষ্টকর হলে যদি একদিন বা দুইদিন না পড়ে, বা কম পড়ে, তাহলে গুনাহ হবে না। কিন্তু অভ্যাসে পরিণত করা কবিরা গুনাহের শামিল। এ সম্পর্কে ইসলামিক স্কলারদের মতামত তুলে ধরা হলো—
فالمسنون عند أبى حنيفة والشافعى وأحمد عشرون ركعة……. فإن السنة عندهم ما واظب عليه النبى صلى الله عليه وسلم أو الخلفاء الراشدين لتصريحهم بسنية الجماعة فى التراويح وعشرون ركعة فيها بمواظبتهم على ذلك، وهذا هو متمسك الأئمة المجتهدين فى المسئلة… فقيام رمضان بعشرين ركعة هو السنة المؤكدة، يضلل تاركها ويلام من نقص عنها (إعلاء السنن، كتاب الصلاة، باب التراويح، دار الكتب العلمية بيروت-7/84-88)
‘ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফি‘ঈ এবং ইমাম আহমদের মতে সুন্নত অনুযায়ী তারাবির নামাজ ২০ রাকাত। তাদের মতে সুন্নত বলতে সেই আমলকে বোঝায়, যা নবী (সা.) অথবা খুলাফায়ে রাশেদিন নিয়মিতভাবে পালন করেছেন। এ কারণেই তারা তারাবিহর নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা সুন্নত বলেছেন এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের নিয়মিত আমলের ভিত্তিতে তারাবিহ ২০ রাকাত নির্ধারণ করেছেন। এই বিষয়টিই এ মাসআলায় মুজতাহিদ ইমামদের মূল দলিল।
অতএব, রমজানে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়াই সুন্নতে মুয়াক্কাদা। কেউ এটি ছেড়ে দিলে তাকে ভুলকারী বা গোমরাহ বলা হয় এবং ২০ রাকাতের কম পড়লে তাকে নিন্দা করা হয়। (ইলাউস সুনান, কিতাবুস সালাত, বাবুত তারাবিহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৮৪–৮৮)
التراويح سنة مؤكدة لمواظبة الخلفاء الراشدين للرجال والنساء… وهى عشرون ركعة هو قول الجمهور وعليه عمل الناس شرقا وغربا (رد المحتار، زكريا-2/493-495، كرتاشى-2/43-45، تبيين الحقائق، زكريا-1/443، ملتان-1/178، مجمع الأنهر، دار الكتب العلمية بيروت-1/202)
তারাবির নামাজ পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সুন্নতে মুয়াক্কাদা। কারণ খুলাফায়ে রাশেদিন এ আমলের ওপর নিয়মিতভাবে অবিচল ছিলেন। তারাবিহর রাকাত সংখ্যা ২০ রাকাত—এটাই অধিকাংশ আলেমের মত (জুমহুরের মত)। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত মুসলিম সমাজে সাধারণভাবে এই আমলই প্রচলিত রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার — খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৯৩–৪৯৫, কুরতাশী সংস্করণ — খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৩–৪৫, তাবইয়িনুল হাকায়েক — খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৪৩, মুলতান সংস্করণ — খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৮, মাজমাউল আনহার — দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০২)
أَنَّ أَصْلَ التَّرَاوِيحِ سُنَّةُ عَيْنٍ، فَلَوْ تَرَكَهَا وَاحِدٌ كُرِهَ، بِخِلَافِ صَلَاتِهَا بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّهَا سُنَّةُ كِفَايَةٍ، فَلَوْ تَرَكَهَا الْكُلُّ أَسَاءُوا؛ أَمَّا لَوْ تَخَلَّفَ عَنْهَا رَجُلٌ مِنْ أَفْرَادِ النَّاسِ وَصَلَّى فِي بَيْتِهِ فَقَدْ تَرَكَ الْفَضِيلَةَ، وَإِنْ صَلَّى أَحَدٌ فِي الْبَيْتِ بِالْجَمَاعَةِ لَمْ يَنَالُوا فَضْلَ جَمَاعَةِ الْمَسْجِدِ (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل، مبحث صلاة التراويح-2/495)
তারাবিহর নামাজ মূলত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সুন্নত (সুন্নতে মুয়াক্কাদা)। তাই কোনো ব্যক্তি যদি এটি ছেড়ে দেয়, তবে তা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) বলে গণ্য হবে। তবে জামাতের সঙ্গে তারাবি পড়া সুন্নতে কিফায়া। অর্থাৎ যদি সবাই একেবারেই জামাতে তারাবি পড়া ছেড়ে দেয়, তাহলে সবাই দোষী হবে।
কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি মসজিদের জামাতে অংশ না নিয়ে নিজের ঘরে একা নামাজ পড়ে, তাহলে সে জামাতের বিশেষ ফজিলত থেকে বঞ্চিত হবে। আর যদি কেউ ঘরে জামাত করে তারাবিহ পড়ে, তবুও তারা মসজিদের জামাতের পূর্ণ ফজিলত লাভ করতে পারবে না। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুস সালাত, বাবুল বিতর ওয়ান-নাওয়াফিল, মাবহাস সালাতুত তারাবিহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৯৫)।

