নারীরা ইতেকাফে বসেও কি ঘরের কাজ করতে পারবেন?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
নারীর ইতেকাফ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতেকাফ। ইতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির নিয়তে কেউ যদি মাত্র একদিন ইতেকাফ করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান।
পুরুষদের জন্য রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ কোনো মহল্লার মসজিদে যদি অন্তত একজন পুরুষ ইতেকাফ করেন, তাহলে পুরো মহল্লাবাসী এ দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে নারীদের জন্য ইতেকাফ করা মুস্তাহাব।
নারীরা সাধারণত মসজিদের পরিবর্তে নিজ ঘরে নির্ধারিত স্থানে ইতেকাফ করেন। যদি আগে থেকেই ঘরে নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নির্ধারিত না থাকে, তাহলে ইতেকাফের জন্য আলাদা একটি স্থান নির্ধারণ করে সেখানে বসতে হবে।
নারীর জন্য নির্ধারিত সেই স্থানটি ইতেকাফ অবস্থায় পুরুষদের মসজিদের মতোই মর্যাদা রাখে। তাই স্বাভাবিক বা শরিয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া সেই স্থান থেকে বাইরে বের হওয়া বৈধ নয়। সুতরাং রান্নাবান্না বা ঘরের অন্যান্য কাজের জন্য ইতেকাফের স্থান ছেড়ে বাইরে গেলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে।
তবে যদি তার জন্য বাইরে থেকে খাবার এনে দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, তাহলে প্রয়োজনবশত সে খাবার আনতে বাইরে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে খাবার নিয়ে দ্রুত আবার ইতেকাফের স্থানে ফিরে আসতে হবে। বাইরে অপ্রয়োজনীয় সময় অবস্থান করলে ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।
তবে ইতেকাফের জন্য নির্ধারিত স্থানের ভেতরে থেকেই নারী চাইলে কিছু ঘরোয়া কাজ—যেমন আটা মাখা, রান্না করা বা কাপড় ধোয়া—করতে পারেন। তবে উত্তম হলো, ইতেকাফে বসার আগে এসব কাজের বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখা, যাতে ইতেকাফের সময় পূর্ণ একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদতে মনোনিবেশ করা যায়। (ফাতওয়ায়ে বানুরী টাউন, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২১১)

