Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

গরম পানি বা মেন্থলের ভাপ নিলে রোজা ভেঙে যাবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

গরম পানি বা মেন্থলের ভাপ নিলে রোজা ভেঙে যাবে?

রোজা রেখে গরম পানির ভাপ নিলে কি রোজা ভেঙে যায়? মেন্থল ইনহেলেশন নিয়ে ইসলামের বিধান জানুন। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

রমজান মাসে ঠান্ডা, সর্দি বা কাশির সমস্যায় অনেকেই নাজেহাল হন। ডাক্তাররা প্রায়ই গরম পানিতে মেন্থল মিশিয়ে ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু রোজা থাকা অবস্থায় এভাবে ভাপ নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে? ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: আমি অনেকদিন যাবৎ ঠান্ডার সমস্যায় ভুগছি। ডাক্তার বলেছেন, দিনে কয়েকবার গরম পানিতে মেন্থল মিশিয়ে এর ভাপ নিতে। জানতে চাই, রোজা অবস্থায় মেন্থলের ভাপ নেওয়া যাবে কি?

উত্তর: মেন্থলের ভাপ নিলে কিংবা মেন্থল ছাড়া শুধু গরম পানির ভাপ টেনে নিলেও যেহেতু এর মাধ্যমে পানির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা গলায় প্রবেশ করে, তাই এর দ্বারা রোজা ভেঙে যাবে। 

সুতরাং রোজা অবস্থায় তা নেওয়া যাবে না। অতএব, রমজান মাসে মেন্থলের ভাপ গ্রহণ করার প্রয়োজন হলে তা রাতে গ্রহণ করবেন।

হাদিস শরিফে এসেছে, ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশের দ্বারা রোজা ভঙ্গ হয়। বের হওয়ার দ্বারা নয়।’ (সুনানে কুবরা, হাদিস: ৫৬৭)

বিষয়টির ব্যাখা দিতে গিয়ে আলেমরা বলেন, সাধারণ গরম পানি হোক কিংবা ওষুধ বা মশলা মিশ্রিত গরম পানি হোক তার ভাপ নেয়া, চাই তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুক কিংবা মেশিনের মাধ্যমে গ্রহণ করুক–মোট কথা যেভাবেই গ্রহণ করুক না কেন; রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত গরম পানির ভাপ নিলেই রোজা ভেঙ্গে যাবে।

ইবনু আবেদীন রহ. বলেন, যদি রোজাদার তার গলার ভেতরে ধোঁয়া প্রবেশ করায়; প্রবেশ করানোটা যেভাবেই হোক না কেন; এমনকি রোজার কথা মনে থাকা অবস্থায় যদি সে ধুপ জ্বালিয়ে ঘ্রাণ নেয় অথবা  নিজেকে ধোঁয়ার কাছে নিয়ে যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কেননা, এ থেকে বিরত থাকা তার জন্য সম্ভব ছিল। বস্তুত এটি এমন বিষয় যে, অনেক মানুষ এ সম্পর্কে উদাসীন। (হাশিয়া ইবন আবেদীন ২/৯৭)

যদি ঠান্ডার সমস্যার কারণে ভাপ নেওয়া খুবই জরুরি হয়, তবে শরিয়তের পরামর্শ হলো ইফতারের পর থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত যতবার খুশি ভাপ নিতে পারবেন। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

সূত্র: আলবিনায়া ৪/৩১৫; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; হাশিয়াতুশ শারহিল কাবীর, দাসূকী ১/৫২৫; ওসাইকুন নাওয়াযিল ১/৫৬৮

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম