Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

লাইলাতুল কদরের দোয়া ও আমল

Advertisement

Icon

আলেমা মাহফুজা ইসলাম জান্নাত

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

লাইলাতুল কদরের দোয়া ও আমল

Advertisement

শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। লাইলাতুল কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। 

পবিত্র কুরআনুল কারিম নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই রাতকে হাজারের মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উত্তম ও মহা সম্মানিত রাত হিসেবে আমারদের জন্য দান করেছেন। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো ভাগ্য নির্ধারণ বা লাইলাতুল কদরের রাত। 

যে রাতে পবিত্র  কুরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতই লাইলাতুল কদর। আল্লাহতায়ালা বলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি  কুরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে সমভিব্যহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা বা ফজর পর্যন্ত। (আল কুরআন, সুরা-৯৭ [২৫] আল কদর)  

রমজানের শেষ দশদিনের যেকোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুলকদর তালাশ করা যায়, অর্থাৎ ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ রমজান দিবাগত রাতগুলো। তবে অনেক আলেমদের গবেষণা ও ব্যাখ্যায় এবং বুজুর্গানেদ্বীনের মতে ২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ সাতাশ তারিখে পবিত্র শবে কদরের অন্যতম সম্ভাব্য রাত। 

মর্যাদার এ রাত পেলে মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে কী প্রার্থনা করবেন? কী চাইবেন? এ সম্পর্কে হাদিসের একটি বর্ণনা এভাবে এসেছে- হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে- 

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ’ফুয়্যুন; তুহিব্বুল আ’ফওয়া; ফা’ফু আ'ন্নী।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

শবে কদরের আমল

সুতরাং লাইলাতুল কদর পেলে এ আমল ও দোয়া রাত অতিবাহিত করা জরুরি। তা হলো-

১. নফল নামাজ পড়া। 

২. মসজিদে ঢুকেই ২ রাকাত (দুখুলিল মাসজিদ) নামাজ পড়া।

৩. দুই দুই রাকাত করে (মাগরিবের পর ৬ রাকাত) আউওয়াবিনের নামাজ পড়া।

৪. রাতে তারাবির নামাজ পড়া।

৫. শেষ রাতে সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।

৬. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ পড়া।

৬. সম্ভব হলে তাওবার নামাজ পড়া।

৭. সম্ভব হলে সালাতুল হাজাত পড়া।

৮. সম্ভব হলে সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।

৯.  কুরআন তেলাওয়াত করা। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪ কুল পড়া।

১০. দরূদ শরিফ পড়া।

১১. তাওবাহ-ইসতেগফার পড়া। সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পড়া।

১১. জিকির-আজকার করা।

১২. কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত দোয়াপড়া।

১৩. পরিবার পরিজন, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া করা, কবর জেয়ারত করা।

১৪. বেশি বেশি দান-সদকা করা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ছোটবেলায় টাকা চুরি করেছিলেন, এখন পরিশোধ করবেন কিভাবে?

ছোটবেলায় টাকা চুরি করেছিলেন, এখন পরিশোধ করবেন কিভাবে?

নামাজি ব্যক্তি অবৈধ উপার্জন করলে কি জান্নাতে যাবে?

নামাজি ব্যক্তি অবৈধ উপার্জন করলে কি জান্নাতে যাবে?

জীবনের খারাপ সময় থেকে যে শিক্ষা পায় মানুষ

জীবনের খারাপ সময় থেকে যে শিক্ষা পায় মানুষ

মাত্র ১টি শব্দের অলৌকিক শক্তি, যাতে শয়তান দূরে সরে যায়!

মাত্র ১টি শব্দের অলৌকিক শক্তি, যাতে শয়তান দূরে সরে যায়!

দুশমনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন

দুশমনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন

সুখী দাম্পত্যের গোপন চাবিকাঠি, বিয়ের আগেই জানুন সুন্নাহর ৭ পাঠ

সুখী দাম্পত্যের গোপন চাবিকাঠি, বিয়ের আগেই জানুন সুন্নাহর ৭ পাঠ

আরও পড়ুন

শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

শিশুদের আদর করে চুমু দেওয়া কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

ফরজ নামাজের স্থানেই কি সুন্নত পড়বেন, নাকি স্থান পরিবর্তন করা উত্তম?

ফরজ নামাজের স্থানেই কি সুন্নত পড়বেন, নাকি স্থান পরিবর্তন করা উত্তম?

যে বিয়েতে বরকতের দোয়া করেছিলেন নবীজি (সা.)

যে বিয়েতে বরকতের দোয়া করেছিলেন নবীজি (সা.)

ছোটবেলায় টাকা চুরি করেছিলেন, এখন পরিশোধ করবেন কিভাবে?

ছোটবেলায় টাকা চুরি করেছিলেন, এখন পরিশোধ করবেন কিভাবে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম