ইতেকাফে বসে কি নখ কাটা যাবে? কী বলছে ইসলাম?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ইতেকাফে বসে নখ কাটা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নখ কাটা ইসলামি শরিয়তে সুন্নত এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। নারী-পুরুষ সবার জন্যই নিয়মিত নখ কাটা একটি দায়েমি সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
«الفطرة خمس: الختان، والاستحداد، وقص الشارب، وتقليم الأظفار، ونتف الإبط»
‘পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত— খৎনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ে ফেলা।’ (ইবনে মাজাহ ২৯২)
সাধারণত শুক্রবার জুমার নামাজের আগে নখ কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া সুন্নত। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই— যেকোনো সময় নখ কাটা যায়। এমনকি নখ কাটার সময় হলে ইতিকাফে বসেও নখ কাটা জায়েজ। এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, নখ কাটার সময় যেন মসজিদে ময়লা না পড়ে। এজন্য নখ কাটার সময় নিচে চাদর বা গামছা বিছিয়ে নেওয়া উত্তম।
ইতেকাফের গুরুত্ব
রমজানের শেষ দশকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত হলো ইতিকাফ। পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতেকাফ করা বিধানসিদ্ধ। রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ ‘সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া’—অর্থাৎ, কোনো একজন আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়; আর কেউ না করলে পুরো এলাকাবাসী গুনাহগার হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَعَهِدْنَا إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
‘আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম— তোমরা আমার ঘরকে পবিত্র রাখো তাদের জন্য, যারা তাওয়াফ করবে, ইতিকাফ করবে এবং রুকু-সিজদা করবে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১২৫)
মহানবী (সা.) বহু নফল ইবাদত কখনো করতেন, কখনো ছেড়ে দিতেন; কিন্তু মদিনায় হিজরতের পর জীবনের শেষ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকের ইতেকাফ কখনো ত্যাগ করেননি। নবীজি (সা.) বলেছেন—
مَنِ اعْتَكَفَ عَشْرًا فِي رَمَضَانَ كَانَ كَحَجَّتَيْنِ وَعُمْرَتَيْنِ
‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ ও দুটি ওমরার সমান সওয়াব পাবে।’ (শুয়াবুল ঈমান ৩৬৮০)

