শবে কদরেও মুসল্লিশূন্য ছিল মসজিদে আকসা, বন্ধ ইতিকাফ
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
আল আকসা প্রাঙ্গণ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন আল-আকসা মসজিদ চত্বরে তাঁবু খাটিয়ে ইতিকাফ করা ছিল ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য; কিন্তু এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য নেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মসজিদটি অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। ইরান–ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থার অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান পরিচালিত ওয়াকফ কমিটির কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ করে মুসল্লিদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল বাহিনী।
২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণী শায়মা আবেদ জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি আল-আকসায় ইতিকাফ করে আসছিলেন। সেখানকার আধ্যাত্মিক পরিবেশ তাকে বারবার টেনে নিয়ে যেত।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আল-আকসা ছিল এক মিলনমেলা—জেরুজালেম, পশ্চিম তীর কিংবা দূরদেশ তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা মুসলিমদের সঙ্গে গড়ে উঠত ভ্রাতৃত্বের অনন্য বন্ধন। লাইলাতুল কদরের সেই জনসমুদ্র আজ যেন কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ।
২১ বছর বয়সী তায়মা আবু লায়লার কষ্ট ভিন্ন মাত্রার। তার ভাষায়, শুধু এবারই নয়—২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ ২০২৩-এর পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আগে যেখানে ইবাদতে প্রশান্তি ছিল, এখন সেখানে সর্বত্র অস্ত্রধারী সেনার উপস্থিতি। ইবাদতের মাঝেও মানুষকে ভয়ে থাকতে হয়, কখন যে দমন-পীড়ন শুরু হয়।
তায়মা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আল-আকসায় রমজানের শেষ দশক ছিল যেন ‘পৃথিবীর জান্নাত’। কেউ কোরআন তিলাওয়াতে মগ্ন, কেউ নির্জনে দোয়া করছেন, আবার কেউ দলবেঁধে ইসলামের আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতেন। সেই সব দৃশ্য আজ যেন মুহূর্তেই মুছে গেছে।
জেরুজালেমের রাস আল-আমুদ এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী জোহদি আলিয়ান জানান, তার ঘরের জানালা থেকেই দেখা যায় ডোম অব দ্য রক-এর সোনালি গম্বুজ। ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত ইতিকাফ করে আসা এই মানুষটির কাছে আল-আকসা বন্ধের খবরটি ছিল প্রিয়জন হারানোর মতো বেদনাদায়ক।
তিনি বলেন, এখন তারা বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশের মসজিদে ইবাদত করেন, আর দূর থেকে আল-আকসার দেয়ালের দিকে তাকিয়ে অঝোরে কাঁদেন।
তার ভাষায়, আল-আকসায় ইবাদত মানে যেন আসমানের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা। সেখানে আল্লাহর সঙ্গে যে গভীর সংযোগ অনুভব করা যেত, তা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। আল-আকসাহীন রমজান যেন শুধু সময় পার করার নামমাত্র।
এবারের লাইলাতুল কদরে সেই মায়াময় পরিবেশ নেই। সেহরির আগের গুঞ্জন, ফজর পর্যন্ত সম্মিলিত কান্না— সবই এখন স্তব্ধ। বন্ধ দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো ফিলিস্তিনির হৃদয়ে আজ একটাই আর্তি— হে আল্লাহ, তোমার ঘর আমাদের জন্য আবার খুলে দাও।

