Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

রমজানের শেষ এক বা দুই দিন ইতেকাফ করা কি বৈধ?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

রমজানের শেষ এক বা দুই দিন ইতেকাফ করা কি বৈধ?

রমজানের শেষ এক বা দুই দিন ইতেকাফ। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

কোনো মসজিদে দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে বিরত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিয়তে অবস্থান করাকে ইতেকাফ বলা হয়। এটি ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত, যা পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যেও প্রচলিত ছিল। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন—

وَعَهِدْنَا إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ

‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিলাম, তোমরা আমার ঘরকে তওয়াফকারী, ইতেকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১২৫)

ইতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

الْمُعْتَكِفُ يَعْكِفُ الذُّنُوبَ وَيُجْرَى لَهُ مِنَ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَاتِ

‘ইতেকাফকারী গুনাহ থেকে বিরত থাকে এবং তার জন্য নেককারদের সকল নেকির সওয়াব লেখা হয়।’ (ইবনে মাজাহ ১৭৮১)

আরেকটি হাদিসে এসেছে—

مَنِ اعْتَكَفَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ جَعَلَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ ثَلَاثَ خَنَادِقَ كُلُّ خَنْدَقٍ أَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতেকাফ করে, আল্লাহ তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখা সৃষ্টি করেন— প্রতিটি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্বের চেয়েও বেশি বিস্তৃত।’ (মুসতাদরাক আল-হাকেম ৪/২৬৯)

ইতেকাফের প্রকারভেদ

ইসলামে ইতেকাফ তিন প্রকার—

১. ওয়াজিব ইতেকাফ

কেউ যদি ইতেকাফ করার মানত করে, তবে তা পূরণ করা তার জন্য ওয়াজিব। মানত অনুযায়ী যতদিন নির্ধারণ করবে, ততদিন মসজিদে অবস্থান করতে হবে এবং সেই সময় রোজাও রাখতে হবে।

২. সুন্নত ইতেকাফ

রমজানের শেষ দশ দিনের ইতেকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া। অর্থাৎ কোনো একটি মহল্লা থেকে অন্তত একজন এটি আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে—

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন—

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন—

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّىٰ تَوَفَّاهُ اللَّهُ

‘নবী (সা.) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করেছেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুন্নত ইতেকাফ আদায় করতে হলে ২০ রমজানের সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত পুরো দশ দিন মসজিদে অবস্থান করতে হয়। এর কম হলে তা সুন্নত ইতেকাফ হিসেবে গণ্য হবে না।

৩. নফল ইতেকাফ

ওয়াজিব ও সুন্নত ছাড়া অন্যান্য সব ইতেকাফ নফল হিসেবে গণ্য হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এক মুহূর্ত, একদিন, দুইদিন— যে কোনো সময়ের জন্য করা যায়। এমনকি মসজিদে প্রবেশের সময় নিয়ত করলেও নফল ইতেকাফের সওয়াব পাওয়া যায়। নফল ইতেকাফের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়।

এক বা দুই দিন ইতেকাফের বিধান

সুতরাং কেউ যদি রমজানে একদিন, দুইদিন বা কয়েকদিন মসজিদে অবস্থান করেন, তবে তা নফল ইতেকাফ হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি সম্পূর্ণ বৈধ ও সওয়াবের কাজ। তবে যারা সুন্নত ইতেকাফের পূর্ণ ফজিলত পেতে চান, তাদের জন্য পুরো শেষ দশ দিন ইতেকাফ করা আবশ্যক।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম