Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

হজ না করে গরিবদেরকে হজের অর্থ দান করা যাবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১০ এএম

হজ না করে গরিবদেরকে হজের অর্থ দান করা যাবে?

Advertisement

প্রশ্ন: আমার ওপর হজ ফরজ হয়েছে। আমি যদি হজ না করে সেই টাকাটা গরিব মানুষকে সদকা করে দিই, তবে কি আমার ফরজ দায়িত্ব পালন হবে? এ ব্যাপারে শরিয়ত কী বলে? 

উত্তর: হজ ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদের অন্যতম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

بُنِيَ ‌الْإِسْلَامُ ‌عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ الله، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيْتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ

অর্থ: ইসলামের ভিত্তি পাঁচ জিনিসের ওপর স্থাপিত— এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ পালন করা ও রমজানের রোজা রাখা। (সহিহ বুখারি, ৮)

হজ করার মতো আর্থিক সংগতি রয়েছে— এমন মানুষের ওপর হজ করা ফরজ। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا

অর্থ: মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ। (আলে ইমরান, ৯৭)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, أَيُّهَا النَّاسُ، ‌قَدْ ‌فَرَضَ ‌اللهُ ‌عَلَيْكُمُ ‌الْحَجَّ فَحُجُّوا

অর্থ: হে লোকসকল, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ করো। (সহিহ মুসলিম, ৪১২)

অতএব, হজ করার সামর্থ্য থাকলে হজ করা ফরজ। এ ফরজ দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য হজ পালন করা আবশ্যক। হজ পালন না করে সদকা বা অন্য কোনো পুণ্যকর্ম দ্বারা এ দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো নিয়ম শরিয়তে রাখা হয়নি। 

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ফরজ হজের দায় থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই হজ পালন করতে হবে। হজ পালনের অর্থ গরিবদেরকে সদকা করলে আপনার হজ আদায় হবে না। 

উল্লেখ্য, গরিব মানুষকে দান করা অত্যন্ত ভালো কাজ। কুরআন-হাদিসে দান করার প্রতি অনেক উৎসাহিত করা হয়েছে। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,  مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰهَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَهٗ لَهٗۤ اَضۡعَافًا كَثِیۡرَۃً ؕ

অর্থ: এমন কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? ফলে তিনি তাকে বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? (সুরা বাকারা, ২৪৫)

হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,  اتقوا النار ‌ولو ‌بشق ‌تمرة.

অর্থ: তোমরা এক টুকরা খেজুর সদকা করে হলেও জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা করো। (সহিহ বুখারি, ১৪১৭)

তবে ফরজ হজ বাদ দিয়ে হজের অর্থ গরিব মানুষকে দান করা বাঞ্ছনীয় নয়, বরং যাকাত বা নফল সদকা থেকে দান করা উচিত। একইভাবে নফল হজের অর্থও গরিবদেরকে দান করা যেতে পারে, বরং পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় বহু ক্ষেত্রে নফল হজের চেয়ে গরিবদেরকে দান করা অধিক উত্তম। 

সারকথা হলো, হজ ফরজ হলে অবশ্যই হজ পালন করতে হবে। ফরজ হজ বাদ দিয়ে সে অর্থ গরিবদেরকে দান করা যাবে না। তবে নফল হজের অর্থ দান করা যাবে, বরং ক্ষেত্রবিশেষ নফল হজের তুলনায় গরিবদেরকে দান করা অধিক উত্তম হয়ে থাকে। 

সূত্র: সহিহ বুখারি, ১৫৩২, ১৭৮২; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, ৮৮২৩; রাদ্দুল মুহতার, ২/৬২১

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম