Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

কুরবানি হতে হবে শুধুই আল্লাহর জন্য

Advertisement

আরাফাত বিন শাহ আলম

আরাফাত বিন শাহ আলম

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

কুরবানি হতে হবে শুধুই আল্লাহর জন্য

Advertisement

ইসলামের অন্যতম শিআর তথা নিদর্শন হলো দুই ঈদ। আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের উৎসবের জন্য বছরে দুই দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। একটি ঈদুল ফিতর, অপরটি ঈদুল আজহা। 

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আমরা ১লা শাওয়াল ঈদুল ফিতর পালন করি। আর জিলহজের ১০ তারিখে সামর্থ্যবানরা আল্লাহর জন্য পশু কুরবানির মাধ্যমে ত্যাগের নজরানা পেশ করেন। এই কুরবানির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো মহান রবের সন্তুষ্টি লাভ করা।

তাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন। (সুরা আল-কাওসার: ২)

এ আয়াতে সালাতের সঙ্গে বিশেষভাবে কুরবানির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, আমরা যেমন আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করি, তেমনি কুরবানিও আল্লাহর জন্যই করতে হবে।

একমাত্র রবের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরবানি করে আপনাকে মানসিকভাবে আল্লাহমুখী হতে হবে। নিজের অন্তরকে আল্লাহর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। দুনিয়ার অন্য সকল চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিতে হবে। লৌকিকতা ও যশ-খ্যাতির মোহ ত্যাগ করতে হবে।

এই মর্মে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-  لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ

আল্লাহর কাছে ওগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত পৌঁছে না, বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা আল-হাজ্জ: ৩৭)

তাকওয়ার সম্পর্ক বাহ্যিক আমলের চেয়ে আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেই বেশি। কেননা বাহ্যিক আমল মানুষ দেখার সুযোগ থাকে। পক্ষান্তরে মানসিকতা ও মনের গভীরতা থেকে নিজেকে আল্লাহর জন্য সঁপে দেওয়া অন্যরা উপলব্ধি করতে পারে না।

তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) কলবের দিকে ইশারা করে বলেছেন: التَّقْوَى هَاهُنَا এবং তিনি তার বুকের দিকে তিনবার ইশারা করলেন।  

তাকওয়া এখানে। (সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪)

সুতরাং আমার অন্তরে যদি লৌকিকতা কিংবা খ্যাতি লাভই উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে নিশ্চিত বলা যায় আমার কুরবানি একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়নি। 

লৌকিকতা মানে রিয়া। লোক দেখানো বা মানুষের বাহবা পাওয়ার উদ্দেশ্যে যে আমলই করা হোক না কেন, তা এক ধরনের শিরক।

এই মর্মে হাদিসে এসেছে: নিশ্চয় সামান্য রিয়াও শিরক। (মুসনাদে আহমদ: ২৩১১৯, সহিহ)

যাদের কুরবানি নিছক আল্লাহর জন্যই হবে, তাদের কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়।

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কুরবানির দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় হলো রক্ত প্রবাহিত করা। কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও খুরসহ হাজির হবে। তার রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর নিকট এক বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কুরবানি কর। (সুনানুত তিরমিজি: ১৪৯৩, হাসান)

আপনি যদি নিজের কুরবানি আল্লাহর জন্য না করে পার্থিব কোনো উদ্দেশ্যে করেন, তাহলে দুনিয়া অর্জন হবে, কিন্তু আখিরাতে আপনার জন্য কোনো প্রতিদান থাকবে না।

নিশ্চয় সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। (সহিহ বুখারি: ১)

কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে আপনাকে নেকি দেওয়া হবে।

সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কুরবানিতে আমাদের জন্য কী আছে?’ তিনি বললেন: প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে। (সুনানু ইবনে মাজাহ: ৩১২৭)

সুতরাং যদি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরবানি করতে পারেন, তাহলেই আপনি এই ফজিলতের ভাগিদার হবেন।

আর এই ফজিলত অর্জন করতে হলে প্রথমেই আপনার মধ্যে পরিপূর্ণ ইখলাস নিয়ে আসতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুআযকে (রা.) বলেছিলেন: তোমার দ্বীনকে খালেস করো, অল্প আমলই তোমার নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে। (মুসতাদরাকে হাকিম: ৭৮৪৪, সহিহ)

ভেজালযুক্ত ঈমান তথা লোক দেখানো মানসিকতা নিয়ে কোটি টাকা মূল্যের পশু কুরবানি করলেও কোনো লাভ নেই। আর ভেজালমুক্ত ঈমান নিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই ছয় মাসের একটি ভেড়া কুরবানি করলেও সেটাই হতে পারে আমার-আপনার নাজাতের উসিলা।

কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান। (সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪)

সুতরাং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে কুরবানি করাই প্রকৃতি ইমানের পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সে তাওফিক দান করুন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম