Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

যাদের জন্য আসমানের ফেরেশতারা দোয়া করেন

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

যাদের জন্য আসমানের ফেরেশতারা দোয়া করেন

যেসব ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন ফেরেশতারা। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অসংখ্য উপায় রয়েছে। কিন্তু এমন কিছু আমল আছে, যার কারণে শুধু মানুষ নয়, বরং আল্লাহর নূরানী সৃষ্টি ফেরেশতারাও সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন। ফেরেশতাদের দোয়া মানে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, রহমত এবং কল্যাণ লাভের এক অনন্য সুযোগ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ

‘তিনি (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৪৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার বিভিন্ন হাদিসে এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের জন্য ফেরেশতারা বিশেষভাবে দোয়া করেন। নিচে সেই সাত শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরা হলো—

১. পবিত্রতার আবরণে ঘুমিয়ে পড়া মানুষ

যে ব্যক্তি ওযু অবস্থায় ঘুমায়, তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা রাতভর অবস্থান করেন এবং তার জন্য ক্ষমা ও কল্যাণের দোয়া করতে থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ بَاتَ طَاهِرًا بَاتَ فِي شِعَارِهِ مَلَكٌ، فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ إِلَّا قَالَ الْمَلَكُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِكَ فُلَانٍ فَإِنَّهُ بَاتَ طَاهِرًا

‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (ওযুসহ) রাত কাটায়, তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা অবস্থান করেন। সে জাগ্রত হলে ফেরেশতা বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।’ (ইবনে হিব্বান ১০৫১)

২. মসজিদে নামাজের অপেক্ষায় থাকা সৌভাগ্যবান ব্যক্তি

যে ব্যক্তি নামাজের জন্য মসজিদে অপেক্ষা করে, ফেরেশতারা তার জন্য অবিরাম দোয়া করতে থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ

‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তার প্রতি দয়া করুন।’ (মুসলিম ৬৪৯/৬৯৯)

এ দোয়া চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে ওযু অবস্থায় নামাজের অপেক্ষায় থাকে।

৩. প্রথম কাতারের সম্মানিত মুসল্লি

জামাতে নামাজের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ফজিলত অত্যন্ত বেশি। এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ ও ফেরেশতারা বিশেষ রহমতের দোয়া করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তার ফেরেশতারা প্রথম কাতারে অবস্থানকারীদের জন্য দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ ২২৩৯৭)

৪. দুরুদে সিক্ত জবান, রহমতে সিক্ত জীবন

যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দুরুদ পাঠ করে, ফেরেশতারাও তার জন্য দোয়া করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ

‘যে আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করে, ফেরেশতারাও তার জন্য দোয়া করেন।’ (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ৬৪০)

এ কারণে প্রতিদিন বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করা একজন মুমিনের জন্য অমূল্য সম্পদ।

৫. রোগীর খোঁজখবর নেওয়া দয়ালু হৃদয়

ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। এমন ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা বিশেষভাবে দোয়া করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا غُدْوَةً إِلَّا صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ

‘কোনো মুসলমান যদি সকালে কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, তাহলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (ইবনে হিব্বান ২৯৬৪)

৬. অদৃশ্যে ভাইয়ের জন্য দোয়া করা মহান আত্মা

যে ব্যক্তি নিজের মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে আন্তরিক দোয়া করে, তখন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তার জন্যও একই দোয়া করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

وَلَكَ بِمِثْلٍ

‘আর তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ হোক।’ (মুসলিম ২৭৩২/৮৮)

অন্যের জন্য করা নিঃস্বার্থ দোয়া তাই নিজের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনে।

৭. আল্লাহর পথে দানশীল ব্যক্তি

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করে, তার জন্য ফেরেশতারা প্রতিদিন দোয়া করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا

‘হে আল্লাহ! দানকারীকে এর উত্তম প্রতিদান দান করুন।’ (বুখারি ১৪৪২)

প্রতিদিন ভোরে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন; একজন দানকারীর জন্য বরকতের দোয়া করেন এবং অন্যজন কৃপণতার জন্য ধ্বংসের দোয়া করেন।

ফেরেশতাদের দোয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শন। ওযুসহ ঘুমানো, নামাজের অপেক্ষায় থাকা, প্রথম কাতারে দাঁড়ানো, দুরুদ পাঠ করা, রোগী দেখতে যাওয়া, মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহর পথে দান করা— এসব আমল খুব কঠিন নয়, কিন্তু এর প্রতিদান অত্যন্ত মহামূল্যবান।

আমাদের উচিত দৈনন্দিন জীবনে এসব আমলকে অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে আসমানের ফেরেশতারাও আমাদের জন্য রহমত, ক্ষমা ও কল্যাণের দোয়া করেন। কারণ যে ব্যক্তি ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করে, সে নিঃসন্দেহে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের ছায়াতলে আশ্রয় লাভ করে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম