Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি কি পবিত্র না অপবিত্র?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি কি পবিত্র না অপবিত্র?

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ঘরোয়া পরিবেশে বিড়াল মানুষের খুব কাছাকাছি বসবাস করে। অনেক সময় দেখা যায়, ওজুর জন্য রাখা পানিতে বিড়াল মুখ দিয়েছে বা কিছু পানি পান করেছে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এ পানি কি নাপাক হয়ে যায়? বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করলে ওজু ও নামাজ সহিহ হবে কি না? ইসলামী শরিয়তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্রতা সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ

‘তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন, যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করেন।’ (সুরা আল-আনফাল: আয়াত ১১)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পানি মূলত পবিত্র এবং পবিত্রকারী। কোনো শরয়ি কারণ ছাড়া পানিকে অপবিত্র গণ্য করা যাবে না।

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি কি নাপাক?

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট বা মুখ দেওয়া পানি নাপাক নয়। তবে ফকিহদের মতে, অন্য পবিত্র পানির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করা মাকরূহে তানঝিহি।

অর্থাৎ, এমন পানি ব্যবহার না করাই উত্তম। তবে কেউ যদি ওই পানি দিয়ে ওজু করে এবং নামাজ আদায় করে, তাহলে তার ওজু ও নামাজ উভয়ই সহিহ হবে। যেহেতু বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি অপবিত্র নয়, তাই তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ।

সাহাবায়ে কেরামের আমল

হজরত ইকরিমা (রহ.) থেকে বর্ণিত—

أَنَّهُ رَأَى أَبَا قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيَّ يُصْغِي الْإِنَاءَ لِلْهِرِّ فَتَشْرَبُ مِنْهُ، ثُمَّ يَتَوَضَّأُ بِفَضْلِهَا

‘তিনি হজরত আবু কাতাদা আনসারী (রা.)-কে দেখেছেন, তিনি বিড়ালের জন্য পানির পাত্র কাত করে দিলেন। বিড়ালটি পানি পান করার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে তিনি ওজু করলেন।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩৪৬)

এই বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিড়ালের অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওজু করা বৈধ এবং সাহাবায়ে কেরামের আমলেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস

হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বিড়াল সম্পর্কে বলেছেন—

إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ، إِنَّهَا مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ

‘নিশ্চয়ই বিড়াল অপবিত্র নয়। তারা তো তোমাদের আশপাশে ঘুরে বেড়ানো প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (আবু দাউদ ৭৫, তিরমিজি ৯২, নাসাঈ ৬৮)

এই হাদিসই মূলত প্রমাণ করে যে, বিড়ালের মুখ দেওয়া পানি নাপাক নয়।

হজরত ইবনে ওমর (রা.)-এর মতামত

হজরত নাফে (রহ.) বর্ণনা করেন—

عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ سُؤْرَ السِّنَّوْرِ أَنْ يُتَوَضَّأَ بِهِ

‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে ওজু করাকে অপছন্দ করতেন।’ (আল-আওসাত, ইবনুল মুনযির ১/৪১১; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩৪০)

ফকিহগণ এ বর্ণনার আলোকে বলেছেন, বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি নাপাক নয়; তবে অন্য পানি সহজলভ্য থাকলে তা ব্যবহার না করাই উত্তম। এজন্য একে মাকরূহে তানঝিহি বলা হয়েছে।

ফিকহি বিধান

ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে—

> বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি পাক।

> এ পানি দিয়ে ওজু করলে ওজু সহিহ হবে।

> অন্য পবিত্র পানি থাকলে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি ব্যবহার না করাই উত্তম।

> প্রয়োজন হলে বা অন্য পানি না থাকলে বিনা দ্বিধায় এ পানি দিয়ে ওজু করা যাবে।

এ মতামত উল্লেখ করেছেন ফকিহগণ— কিতাবুল আসল, আল-মাবসুত, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, আদ-দুররুল মুখতারসহ বিভিন্ন গ্রন্থে।

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বিড়াল পবিত্র প্রাণী এবং তার মুখ দেওয়া পানি নাপাক নয়। তাই বিড়াল মুখ দেওয়া পানি দিয়ে ওজু করলে ওজু ও নামাজ উভয়ই সহিহ হবে। তবে অন্য পবিত্র পানির ব্যবস্থা থাকলে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি ব্যবহার না করাই উত্তম। এ বিষয়ে অযথা সন্দেহ বা কুসংস্কারে না ভুগে কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহবিদদের ব্যাখ্যার আলোকে আমল করাই একজন মুসলমানের জন্য কাম্য।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম