Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

সফলতার পথে তরুণদের প্রথম পদক্ষেপ কী?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

সফলতার পথে তরুণদের প্রথম পদক্ষেপ কী?

তরুণদের প্রথম সফলতা। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

প্রতিটি তরুণের হৃদয়ে থাকে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। কেউ বড় ডাক্তার হতে চায়, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, আবার কেউ সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে চায়। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন জীবন গড়া, যা তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের পথে পৌঁছে দেয়। আর সেই পথের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো নামাজ। নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধন, ইমানের পরিচয় এবং দুনিয়া-আখিরাতের সফলতার চাবিকাঠি। তাই কৈশোর ও তারুণ্যের শুরু থেকেই নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

নামাজ: ইমানের সবচেয়ে বড় প্রমাণ

ইমান একটি বৃক্ষের মতো। এ বৃক্ষের ফল হলো নেক আমল, আর তার সবচেয়ে সুন্দর ফুল হলো নামাজ। একজন মানুষ নিজেকে ইমানদার দাবি করতে পারে, কিন্তু তার ইমানের বাস্তব প্রমাণ প্রকাশ পায় নামাজের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১০৩)

নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের সবচেয়ে দৃঢ় বন্ধন।

তরুণ বয়সেই নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্ব

কৈশোর ও তারুণ্য মানুষের জীবনের ভিত্তি নির্মাণের সময়। এ সময়ে যে অভ্যাস গড়ে ওঠে, তা সারাজীবন মানুষের সঙ্গী হয়। এখন থেকেই যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের অংশ বানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আফসোস করতে হবে না। অনেক মানুষ বৃদ্ধ বয়সে এসে আফসোস করেন— ‘আহা! যদি ছোটবেলা থেকেই নামাজ পড়তাম!’ কারণ তখন তাদের বহু বছরের কাজা নামাজের হিসাব সামনে এসে দাঁড়ায়।

তাই জান্নাতের পথে এগিয়ে যেতে হলে নামাজকে আজ থেকেই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানাতে হবে।

আখিরাতে প্রথম হিসাব হবে নামাজের

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ

‘কিয়ামতের দিন বান্দার সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে তা হলো নামাজ।’ তিরমিজি ৪১৩)

যে আমলের হিসাব সবার আগে হবে, তার প্রতি অবহেলা করা একজন মুমিনের জন্য কখনোই সমীচীন নয়।

নামাজ: আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন

বর্তমান যুগে মানুষের বন্ধু-পরিচিতের সংখ্যা অনেক। কিন্তু সব বন্ধুত্বের ঊর্ধ্বে রয়েছে এক বন্ধুত্ব—আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক। নামাজই সেই সম্পর্ককে দৃঢ় করে। যখন একজন তরুণ সময়মতো নামাজ আদায় করে, তখন সে আল্লাহর কাছে নিজের আশা, স্বপ্ন, প্রয়োজন ও দুঃখ-কষ্ট তুলে ধরার সুযোগ পায়। তাই নামাজ শুধু দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর সঙ্গে হৃদয়ের সংযোগ স্থাপনের সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম।

দোয়া কবুলের অন্যতম সময়

হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো— কোন দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হয়?

তিনি বললেন—

جَوْفُ اللَّيْلِ الْآخِرِ وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ

‘রাতের শেষ অংশের দোয়া এবং ফরজ নামাজের পরের দোয়া।’ (তিরমিজি ৩৪৯৯)

তাই প্রতিটি নামাজের পর নিজের জন্য, পরিবার, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সফলতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

সফলতার প্রকৃত চাবিকাঠি

মানুষের মেধা ও পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সফলতার চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর হাতে। অনেক মেধাবী মানুষ কাঙ্ক্ষিত সফলতা পান না, আবার অনেক সাধারণ মানুষ অসাধারণ সাফল্যের অধিকারী হন। তাই চেষ্টা করতে হবে, পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্যও চাইতে হবে। আর সেই চাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম হলো নামাজ।

নামাজ কঠিন নয়, বরং সবচেয়ে সহজ ইবাদত

অনেকে মনে করে পড়াশোনা, কোচিং বা ব্যস্ততার কারণে নামাজ পড়া কঠিন। অথচ ওজুসহ একটি নামাজ আদায় করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। এই অল্প সময়ের আমলই একজন মানুষকে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাতারে শামিল করতে পারে।

নামাজের সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি

অনেক সময় নামাজ কাজা হওয়ার কারণ হয় ওয়াক্ত সম্পর্কে অজ্ঞতা। অনেকে মনে করেন, আজান না হলে নামাজ পড়া যায় না। অথচ নামাজের সময় শুরু হয়ে গেলে আজানের আগেও নামাজ আদায় করা বৈধ। আজান মূলত জামাতের জন্য ঘোষণা। তাই ক্লাস, পরীক্ষা বা অন্য ব্যস্ততার কারণে জামাত না পেলেও নামাজ যেন কাজা না হয়—সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

শয়তানের অজুহাত থেকে সতর্ক থাকতে হবে

শয়তান মানুষের সামনে নানা অজুহাত তৈরি করে—

> কাপড় পাক নয়।

> প্যান্ট পরেছি।

> টি-শার্টে ছবি আছে।

> গোসল করিনি।

> হয়তো কাপড়ে নাপাকি লেগেছে।

এসব সন্দেহের অনেকটাই ওয়াসওয়াসা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ

‘তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।’ (সুরা আত-তাগাবুন: আয়াত ১৬)

অর্থাৎ যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, সাধ্যের মধ্যে নামাজ আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

যদি কোনো নামাজ ছুটে যায়

কখনো ঘুমের কারণে বা ভুলবশত নামাজ ছুটে গেলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا

‘যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, সে যেন স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা আদায় করে।’ (বুখারি ৫৯৭, মুসলিম ৬৮৪)

তাই কোনো নামাজ ছুটে গেলে তা দ্রুত আদায় করে নেওয়া উচিত।

নামাজই মুসলমানের পরিচয়পত্র

নামাজ একজন মুসলমানের পরিচয়ের সবচেয়ে বড় নিদর্শন। একজন মানুষ যতই নিজেকে মুসলমান দাবি করুক, নামাজের মাধ্যমেই তার ইমানের বাস্তব প্রকাশ ঘটে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ

‘মানুষ ও শিরক-কুফরের মধ্যকার পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।’ (মুসলিম ৮২)

জান্নাতের পথে যাত্রা শুরু হয় একটি আন্তরিক সিদ্ধান্ত থেকে, আর সেই সিদ্ধান্তের বাস্তব রূপ হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। যে তরুণ আজ থেকেই নামাজকে জীবনের অংশ বানিয়ে নেয়, সে শুধু একটি ইবাদত পালন করে না; বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, নিজের ভবিষ্যৎ আলোকিত করে এবং আখিরাতের সফলতার ভিত্তি স্থাপন করে।

তাই আজই প্রতিজ্ঞা হোক— জীবনে কোনো নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে কাজা করব না। কারণ জান্নাতের পথে তরুণদের প্রথম, সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ হলো সময়মতো নামাজ আদায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের তরুণ সমাজকে নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার এবং নামাজের মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম