Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

অতীত নিয়ে আফসোস নয়— আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

অতীত নিয়ে আফসোস নয়— আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

আল্লাহর তাকদিরের ওপর ভরসা করার ৭টি উপায়। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর আমরা সঙ্গে সঙ্গে পাই না। অনেক স্বপ্ন অপূর্ণ থাকে, অনেক পরিকল্পনা ভেঙে যায়, অনেক ঘটনা আমাদের বোধগম্যতার বাইরে চলে যায়। তখন হৃদয়ে অস্থিরতা জন্ম নেয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় কাজ করে, আর অতীতের স্মৃতি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু একজন মুমিন জানে— তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আল্লাহর জ্ঞানে, প্রজ্ঞায় এবং পরিকল্পনায় পরিচালিত হচ্ছে। তাই তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস কেবল একটি আকিদা নয়; বরং এটি প্রশান্তি, ধৈর্য ও আশার এক অমূল্য উৎস।

আল্লাহর তাকদিরের ওপর ভরসা করার ৭টি উপায়

১. অতীতকে আল্লাহর ফয়সালা হিসেবে মেনে নিন

যে ঘটনা ঘটে গেছে, তা আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বারবার অতীতের ভুল, ব্যর্থতা কিংবা হারিয়ে যাওয়া সুযোগ নিয়ে চিন্তা করা হৃদয়ের শান্তি নষ্ট করে। বরং বিশ্বাস করুন, যা ঘটেছে তা আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটেছে এবং তাতেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত আছে।

২. ‘যদি এমন হতো...’ চিন্তা থেকে দূরে থাকুন

শয়তান মানুষের মনে আফসোস ও হতাশার দরজা খুলে দেয় ‘যদি’ শব্দটির মাধ্যমে। একজন মুমিন চেষ্টা করবে, শিক্ষা নেবে, কিন্তু অতীতকে নিয়ে অসীম অনুশোচনায় ডুবে থাকবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ: لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ: قَدَرُ اللّٰهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ

‘কোনো বিপদ এলে বলো না, ‘যদি আমি এমন করতাম, তাহলে এমন হতো।’ বরং বলো, ‘এটি আল্লাহর তাকদির, তিনি যা ইচ্ছা তাই করেছেন।’ (মুসলিম ২৬৬৪)

৩. দোয়ার ফলাফলের ব্যাপারে আশাবাদী থাকুন

কোনো দোয়া কখনোই বৃথা যায় না। আল্লাহ কখনো তাৎক্ষণিকভাবে কবুল করেন, কখনো বিলম্বে উত্তম সময়ের জন্য সংরক্ষণ করেন, আবার কখনো তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন। তাই দোয়া করার পর উদ্বিগ্ন না হয়ে আল্লাহর রহমতের অপেক্ষা করুন।

৪. প্রতিটি ঘটনার পেছনে আল্লাহর হিকমাহ রয়েছে

অনেক সময় আমরা যা অপছন্দ করি, সেটিই আমাদের জন্য কল্যাণকর হয়। আবার যা ভালো মনে করি, সেটি আমাদের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَعَسَىٰ أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ

‘হতে পারে তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ করছ, অথচ সেটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২১৬)

৫. নিজের সীমাবদ্ধতা এবং আল্লাহর ক্ষমতা স্মরণ করুন

মানুষ পরিকল্পনা করে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর। আমাদের জ্ঞান সীমিত, দৃষ্টি সীমিত এবং সামর্থ্যও সীমিত। কিন্তু আল্লাহ সবকিছু জানেন, দেখেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন। এই উপলব্ধি অহংকার কমায় এবং হৃদয়ে প্রশান্তি আনে।

৬. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন

অযথা উদ্বেগ ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারে না; বরং বর্তমানের শান্তি নষ্ট করে। মুমিন তার দায়িত্ব পালন করে, চেষ্টা করে, তারপর ফলাফল আল্লাহর হাতে সোপর্দ করে দেয়।

৭. ভবিষ্যৎকে আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন

আপনি জানেন না আগামীকাল কী হবে, কিন্তু আপনি জানেন— যিনি আগামীকাল সৃষ্টি করবেন, তিনি আপনার রব। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় নয়, বরং আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখুন।

কুরআনের অবিচল আশ্বাস

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللّٰهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

‘আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৩)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللّٰهِ

‘যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা কর।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৫৯)

তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়; বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকা। একজন মুমিন জানে—আল্লাহ কখনো তার বান্দার ক্ষতি চান না। তাই জীবনের প্রতিটি সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং সফলতা-ব্যর্থতার মাঝেও সে বলে—

حَسْبُنَا اللّٰهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।’

যে হৃদয় তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট হতে শেখে, সে হৃদয়ই প্রকৃত প্রশান্তির স্বাদ লাভ করে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম