Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা যাবে কি?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা যাবে কি?

জাকাত না দিয়ে দান করা যাবে কি? ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

দান-সাদকা ইসলামের একটি মহৎ ইবাদত। এটি মানুষের হৃদয়ে দয়া, সহানুভূতি ও উদারতার গুণ সৃষ্টি করে এবং সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কেউ নিয়মিত দান-সাদকা করলেও তার ওপর ফরজ হওয়া জাকাত আদায় করেন না বা দীর্ঘদিন বকেয়া রাখেন। তখন প্রশ্ন ওঠে— জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য?

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করার পরই নফল ইবাদতের দিকে মনোযোগ দিতে। তাই জাকাত ও দান-সাদকার মধ্যে পার্থক্য এবং তাদের অগ্রাধিকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।

জাকাত: ইসলামের একটি মৌলিক ফরজ বিধান

জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। এটি শুধু আর্থিক ইবাদত নয়; বরং সম্পদের পবিত্রতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ

‘তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত আদায় কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا

‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা (জাকাত) গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ১০৩)

এ থেকে বোঝা যায়, জাকাত কোনো ঐচ্ছিক দান নয়; বরং নির্ধারিত সম্পদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত ফরজ অধিকার।

জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা যাবে?

ফিকহবিদদের মতে, জাকাত বকেয়া থাকা অবস্থায় নফল দান-সাদকা করা জায়েজ। তবে এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত (মাকরুহ) ও দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।

কারণ একজন মুসলমানের প্রথম দায়িত্ব হলো তার ওপর ফরজ হওয়া জাকাত আদায় করা। এরপর অতিরিক্ত সম্পদ থেকে নফল দান-সাদকা করা। যে ব্যক্তি ফরজ দায়িত্ব আদায় না করে শুধু নফল দানে ব্যস্ত থাকে, সে শরিয়তের নির্ধারিত অগ্রাধিকারকে উপেক্ষা করে।

ফরজের আগে নফল নয়

ইসলামের একটি মৌলিক নীতি হলো— ফরজ ইবাদত নফল ইবাদতের ওপর অগ্রাধিকার পাবে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ

‘আমার বান্দা ফরজকৃত আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে না।’ (বুখারি ৬৫০২)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো ফরজ দায়িত্ব পালন। তাই জাকাত আদায় না করে দান-সাদকার মাধ্যমে অধিক নেকি অর্জনের আশা করা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়।

দান-সাদকা কি জাকাতের বিকল্প হতে পারে?

অনেকেই মনে করেন, ‘আমি তো নিয়মিত এত দান করি, আলাদা করে জাকাত না দিলেও হবে।’ এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

জাকাত এবং নফল দান দুটি ভিন্ন ইবাদত। জাকাত একটি ফরজ দায়িত্ব, আর দান-সাদকা একটি নফল আমল। যেমন— কেউ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ না পড়ে শুধু তাহাজ্জুদ পড়লে ফরজ নামাজের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবে না; তেমনি জাকাত আদায় না করে যতই নফল দান করা হোক, জাকাতের দায় থেকে মুক্তি মিলবে না।

জাকাত আদায় না করার ভয়াবহ পরিণতি

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ

‘যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য সঞ্চয় করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৩৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا مِنْ صَاحِبِ ذَهَبٍ وَلَا فِضَّةٍ لَا يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ صُفِّحَتْ لَهُ صَفَائِحُ مِنْ نَارٍ

‘যে ব্যক্তি স্বর্ণ-রৌপ্যের হক (জাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের পাত তৈরি করা হবে।’ (মুসলিম ৯৮৭)

একজন মুমিনের করণীয়

  • জাকাত হিসাব করে সময়মতো আদায় করা।
  • পূর্বের বকেয়া জাকাত থাকলে দ্রুত পরিশোধ করা।
  • জাকাতকে দান-সাদকার বিকল্প মনে না করা।
  • ফরজ দায়িত্ব পালনের পর নফল দান-সাদকায় অংশগ্রহণ করা।
  • সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ—এই বিশ্বাস হৃদয়ে দৃঢ় করা।

ইসলামে দান-সাদকার মর্যাদা অনেক উঁচু, কিন্তু কোনো নফল আমল কখনো ফরজ ইবাদতের বিকল্প হতে পারে না। জাকাত হলো আল্লাহর নির্ধারিত অধিকার, যা আদায় করা সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব। তাই জাকাত বকেয়া রেখে দান-সাদকা করা জায়েজ হলেও তা শরিয়তের কাম্য পদ্ধতি নয়।

একজন সচেতন মুমিনের উচিত প্রথমে তার ওপর অর্পিত ফরজ দায়িত্বসমূহ— বিশেষত জাকাত আদায় করা, এরপর নফল দান-সাদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। কারণ আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম পথ শুরু হয় ফরজ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই। ফরজ অবহেলা করে নফল দিয়ে ঘাটতি পূরণ হয় না; বরং ফরজ আদায়ের পরই নফল আমল প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা লাভ করে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় নবীজি (সা.) যে দোয়া পড়তেন

শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় নবীজি (সা.) যে দোয়া পড়তেন

নামাজি ব্যক্তি অবৈধ উপার্জন করলে কি জান্নাতে যাবে?

নামাজি ব্যক্তি অবৈধ উপার্জন করলে কি জান্নাতে যাবে?

জীবনের খারাপ সময় থেকে যে শিক্ষা পায় মানুষ

জীবনের খারাপ সময় থেকে যে শিক্ষা পায় মানুষ

মুহূর্তেই নবীজির (সা.) দোয়া কবুলের বিস্ময়কর ঘটনা

মুহূর্তেই নবীজির (সা.) দোয়া কবুলের বিস্ময়কর ঘটনা

মাত্র ১টি শব্দের অলৌকিক শক্তি, যাতে শয়তান দূরে সরে যায়!

মাত্র ১টি শব্দের অলৌকিক শক্তি, যাতে শয়তান দূরে সরে যায়!

দুশমনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন

দুশমনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন

আরও পড়ুন

শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় নবীজি (সা.) যে দোয়া পড়তেন

শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় নবীজি (সা.) যে দোয়া পড়তেন

মসজিদের মর্যাদা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

মসজিদের মর্যাদা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

জুমার সুন্নত নামাজ কত রাকাত?

জুমার সুন্নত নামাজ কত রাকাত?

নামাজের সময়সূচি ২৩ অক্টোবর-২০২৬

নামাজের সময়সূচি ২৩ অক্টোবর-২০২৬

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম