৬টি গুণ অর্জনেই জান্নাতের নিশ্চয়তা!
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলাম শুধু ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি সুন্দর চরিত্র, সততা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মসংযমেরও শিক্ষা দেয়। একজন মুমিনের ইমানের সৌন্দর্য তার আচরণ, কথাবার্তা ও মানুষের সঙ্গে লেনদেনে প্রকাশ পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কয়েকটি মৌলিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো একজন মুসলিম আন্তরিকভাবে ধারণ করতে পারলে তিনি জান্নাতের সুসংবাদ লাভের আশা করতে পারেন।
৬টি গুণ অর্জনে জান্নাতের সুসংবাদ
হজরত ওবাদাতা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
اضْمَنُوا لِي سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ
‘তোমরা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’
এরপর তিনি বলেন—
১. اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ— কথা বললে সত্য বলবে
মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সত্যবাদিতা। সত্য মানুষকে নেকির পথে পরিচালিত করে এবং আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ১১৯)
২. وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ— ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করবে
মুমিন কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না। অঙ্গীকার রক্ষা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ ۖ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا
‘তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৩৪)
৩. وَأَدُّوا إِذَا اؤْتُمِنْتُمْ— আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করবে
আমানত রক্ষা করা ইমানদারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তা অর্থ, দায়িত্ব কিংবা গোপনীয়তা— যাই হোক না কেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা যেন আমানত যথাযথভাবে তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৫৮)
৪. وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ— নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে
চারিত্রিক পবিত্রতা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ সম্পর্কের বাইরে নিজেকে সংযত রাখা ইমানের দাবি। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
‘আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা আল-মুমিনুন: আয়াত ৫)
৫. وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ— দৃষ্টি সংযত রাখবে
চোখের হেফাজত হৃদয়ের পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন—
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
‘মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে।’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ৩০)
৬. وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ— হাত ও জিহ্বা দিয়ে কাউকে কষ্ট দেবে না
প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার কথা ও কাজ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
‘প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি ১০, মুসলিম ৪০)
উল্লিখিত ছয়টি গুণের হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে—
اضْمَنُوا لِي سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ : اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ ، وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ ، وَأَدُّوا إِذَا اؤْتُمِنْتُمْ ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ ، وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ
‘তোমরা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এরপর তিনি বলেন— কথা বললে সত্য বলবে, ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করবে, আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করবে, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে, দৃষ্টি সংযত রাখবে, হাত ও জিহ্বা দিয়ে কাউকে কষ্ট দেবে না।’ (বাইহাকি, মুসনাদ আহমাদ এবং মুস্তাদরাকে হাকেম ৮০৬৩)
জান্নাত লাভের পথ কেবল বেশি বেশি নফল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্যবাদিতা, ওয়াদা রক্ষা, আমানতদারি, চারিত্রিক পবিত্রতা, দৃষ্টি সংযম এবং মানুষের প্রতি উত্তম আচরণের মধ্যেও রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ। একজন মুমিন যদি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই ছয়টি গুণ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন, তবে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষিত সেই মহান সুসংবাদের আশা করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহৎ গুণগুলো অর্জন করে জান্নাতের উপযুক্ত বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

