রিজিকে বরকত লাভের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রিজিক একমাত্র আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই নির্ধারিত ও দানকৃত। তবে তিনি তার বান্দাদের জন্য এমন কিছু আমলের নির্দেশ দিয়েছেন, যা রিজিকে বরকত, প্রশস্ততা এবং কল্যাণ বয়ে আনে। একজন মুমিন যখন আল্লাহর আদেশ মেনে চলে, হারাম থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং মানুষের উপকারে এগিয়ে আসে, তখন আল্লাহ তাআলা তার জীবনে এমন বরকত দান করেন যা কেবল সম্পদের প্রাচুর্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শান্তি, তৃপ্তি ও কল্যাণেও প্রকাশ পায়।
রিজিক বৃদ্ধির ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
১. তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অবলম্বন করা
যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। কুরআনের দলিল—
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
অর্থ: ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ২–৩)
২. আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকা করা
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করলে সম্পদ কমে না; বরং আল্লাহ তাআলা তার উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং রিজিকে বরকত দান করেন। কুরআনের দলিল—
وَمَآ أَنفَقْتُم مِّن شَىْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ ۖ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার পরিবর্তে আরও দান করেন। আর তিনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা: আয়াত ৩৯)
৩. নামাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং নিয়মিত আদায় করা
নামাজ শুধু ইবাদতই নয়; এটি আল্লাহর রহমত, বরকত ও সফলতার অন্যতম মাধ্যম। কুরআনের দলিল—
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا ۖ لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ
‘তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং এর ওপর অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে রিজিক চাই না; বরং আমিই তোমাকে রিজিক দান করি।’ (সুরা ত্বহা: আয়াত ১৩২)
৪. হালাল উপার্জনের প্রতি যত্নবান হওয়া
হালাল উপার্জনে বরকত রয়েছে। হারাম উপার্জন সাময়িক লাভ দিলেও তা আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে বঞ্চিত করে। হাদিসের দলিল—
إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (মুসলিম ১০১৫)
৫. বেশি বেশি ইস্তিগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করা
ইস্তিগফার গুনাহ মাফের পাশাপাশি রিজিক বৃদ্ধি ও আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম। কুরআনের দলিল—
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَآءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَٰلٍ وَبَنِينَ
‘আমি বলেছিলাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে সমৃদ্ধ করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০–১২)
৬. দরিদ্র, অসহায় ও অভাবীদের সাহায্য করা
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। এতে সমাজে কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আল্লাহ বান্দার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেন। হাদিসের দলিল—
وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ
‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।’ (মুসলিম ২৬৯৯)
রিজিকের প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তাই তার ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে তাকওয়া অবলম্বন করা, নিয়মিত নামাজ আদায় করা, হালাল উপার্জনে সচেষ্ট থাকা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকা করা এবং অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো— এসব আমল একজন মুমিনের জীবনে বরকত ও কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত করে। আমরা সবাই যেন আন্তরিকতার সঙ্গে এসব আমল করার তৌফিক লাভ করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের রিজিকে বরকত দান করুন, হালাল ও প্রশস্ত রিজিক নসিব করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন। আমিন।

