চার বাক্যের জিকির, ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাসবিহের চেয়েও ভারী!
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুমিনের জীবন আল্লাহর স্মরণে পরিপূর্ণ হওয়াই তার প্রকৃত সৌভাগ্য। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় ইবাদতে ব্যয় করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। মহান আল্লাহ তার অসীম দয়ায় এমন কিছু সংক্ষিপ্ত আমল দান করেছেন, যার প্রতিদান অপরিসীম। এমনই একটি মহিমান্বিত জিকিরের শিক্ষা দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সা.), যা অল্প সময়ে পাঠ করেও দীর্ঘ সময়ের তাসবিহের সমপরিমাণ, বরং তার চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জনের সুসংবাদ বহন করে।
যে জিকিরের সওয়াব সকালভর তাসবিহের চেয়েও ভারী
উম্মুল মুমিনিন হজরত জুওয়াইরিয়া (রা.) বর্ণনা করেন— রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন ফজরের নামাজের পর তাকে ইবাদত ও তাসবিহে মগ্ন রেখে বের হয়ে গেলেন। এরপর প্রায় দুপুরে ফিরে এসে দেখলেন, তিনি এখনও একই জায়গায় বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন— ‘আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর চারটি বাক্য তিনবার বলেছি। যদি এগুলো তোমার সকাল থেকে এ পর্যন্ত করা সমস্ত তাসবিহের সঙ্গে ওজন করা হয়, তবে এই কথাগুলোই অধিক ভারী হবে।’
এরপর তিনি এই মহান জিকিরটি শিক্ষা দিলেন—
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আদাদা খালকিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করছি— তার সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যার সমপরিমাণ, তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী, তার আরশের ওজন পরিমাণ এবং তার বাণীর কালির পরিমাণ।’ (মুসলিম ২৭২৬)
কুরআনের আলোকে জিকিরের মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় তার পবিত্রতা ঘোষণা কর।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৪১–৪২)
আরও ইরশাদ হয়েছে
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ
‘তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫২)
হাদিসের শিক্ষা
এই হাদিস আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—
- আল্লাহর কাছে আমলের মূল্য কেবল পরিমাণে নয়; আন্তরিকতা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সংক্ষিপ্ত কিন্তু সহিহ জিকিরের প্রতিদান অনেক বড় হতে পারে।
- সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।
- রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের জন্য সহজ ও অধিক সওয়াবের আমল শিক্ষা দিতে আগ্রহী ছিলেন।
আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা নফল ইবাদত করার সুযোগ পাই না। কিন্তু নবী করীম (সা.) আমাদের এমন কিছু মূল্যবান জিকির শিখিয়ে গেছেন, যা অল্প সময়ে পাঠ করেও অসীম সওয়াবের দরজা খুলে দেয়। তাই প্রতিদিন ফজরের পর কিংবা সকালবেলায় অন্তত তিনবার এই মহান জিকিরটি পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তুলি। আল্লাহর স্মরণে আমাদের অন্তর প্রশান্ত হোক, আমল ভারী হোক এবং কিয়ামতের দিন এই জিকির আমাদের নাজাতের উসিলা হয়ে উঠুক। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তার জিকির করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

