Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

যে আমলে রাতের নিরাপত্তার পাহারা দেয় ফেরেশতারা

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

যে আমলে রাতের নিরাপত্তার পাহারা দেয় ফেরেশতারা

ছবি: সংগৃহীত

দিনভর কঠোর পরিশ্রম ও ব্যস্ততার পর প্রশান্তিময় বিশ্রামের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো ঘুম। ইসলাম মানুষের এই প্রাকৃতিক বিশ্রামকেও ইবাদতে রূপান্তরের পথ দেখিয়েছে। রাতে শরীর ও মনকে পবিত্র করে শয্যা গ্রহণ করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম প্রিয় একটি সুন্নত। শোয়ার পূর্বে অজু করার সামান্য এই আমল একদিকে মানুষের আত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে বান্দার জন্য মহান আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের নিরবচ্ছিন্ন দোয়ার সৌভাগ্য বয়ে আনে।

ফেরেশতাদের দোয়া ও নিরাপত্তার পাহারা

পবিত্র অবস্থায় ঘুমানোর সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো—আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা সেই বান্দার পাশে নিয়োজিত থাকেন এবং সারারাত তার ক্ষমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। হাদিসে পাকে এসেছে—

مَنْ بَاتَ طَاهِرًا، بَاتَ فِي شِعَارِهِ مَلَكٌ، فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ إِلَّا قَالَ الْمَلَكُ: اللهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِكَ فُلَانٍ، فَإِنَّهُ بَاتَ طَاهِرًا

‘যে ব্যক্তি পবিত্র (অজু) অবস্থায় রাত কাটায়, তার কাপড়ের ভেতরে (শরীরের সাথে মিশে) একজন ফেরেশতা রাত যাপন করে। সে যখনই ঘুম থেকে জাগ্রত হয় বা পাশ ফেরে, তখনই ফেরেশতা দোয়া করে বলে— হে আল্লাহ! আপনার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দিন, কেননা সে পবিত্র অবস্থায় রাত যাপন করেছে।’ (ইবনে হিব্বান ১০৫১, বায়হাকি ৪৬৮৭, তাবারানি ১৩৬২০)

দোয়া কবুলের সুবর্ণ সুযোগ

অজু করার পাশাপাশি জিকির ও তাসবিহ পাঠ করে ঘুমালে রাতে জেগে যা কিছু চাওয়া হয়, আল্লাহ তাআলা বান্দার সেই প্রার্থনা কবুল করেন। হাদিসে পাকে এসেছে—

مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَبِيتُ عَلَى ذِكْرٍ طَاهِرًا، فَيَتَعَارُّ مِنَ اللَّيْلِ فَيَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا مِنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ

‘যে কোনো মুসলমান ব্যক্তি জিকিররত ও পবিত্র (অজু) অবস্থায় রাত যাপন করে, অতঃপর রাতে হঠাৎ জাগ্রত হয়ে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ (আবু দাউদ ৫০৪২, নাসাঈ ১০৫৭৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৮১)

আত্মিক ও শারীরিক প্রশান্তির উৎস

অজু করার মাধ্যমে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে ছোট ছোট গুনাহগুলো পানির ফোঁটার সঙ্গে ঝরে যায়। এর ফলে অন্তরের ওপর থেকে অস্থিরতা দূর হয় এবং এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রশান্তি তৈরি হয়। পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো দুঃস্বপ্ন থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করে।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাত্র কয়েক মিনিটের পরিচ্ছন্নতা ও অজু করার আমলটি নিছক কোনো শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়; বরং এটি একজন মুমিনের রাতকে ক্ষমার রাত ও রহমতের চাদরে আবৃত করার সহজ উপায়। নিয়মিত এই সুন্নতটি পালনের মাধ্যমে আমাদের রাতের ঘুমও পরিণত হতে পারে অফুরন্ত সওয়াব ও ফেরেশতাদের দোয়াপ্রাপ্তির এক অনন্য ইবাদতে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .