Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

হজরত মুহাম্মদ (সা.)

যে শিশুর জীবন হয়ে উঠল মানবতার আলোর পথ

Advertisement

আরাফাত বিন শাহ আলম

আরাফাত বিন শাহ আলম

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

যে শিশুর জীবন হয়ে উঠল মানবতার আলোর পথ

Advertisement

আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগের কথা। তুমি কি শুনবে সেই আশ্চর্য গল্প?

তাহলে এসো, মন দিয়ে শোনো। সে সময় পৃথিবী যেন অন্ধকারে ডুবে ছিল। মানুষের হৃদয় থেকে মায়া-মমতা, ভালোবাসা আর মানবিকতার আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল। শক্তিশালী দুর্বলকে অত্যাচার করত, অন্যায়-অবিচার ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। 

মানুষ পথ হারিয়ে ফেলেছিল—কোন পথে গেলে সত্য, ন্যায় আর শান্তির সন্ধান পাওয়া যাবে, তা যেন কেউ জানত না।

পৃথিবীর এমন এক সময়ে মানবতার জন্য প্রয়োজন ছিল একজন মহান পথপ্রদর্শকের।

কিন্তু তিনি তো হঠাৎ আকাশ থেকে পৃথিবীতে এসে হাজির হবেন না! সৃষ্টির নিয়ম মেনেই তাঁকে মায়ের গর্ভে কিছুদিন অবস্থান করতে হবে। তারপর একদিন পৃথিবীর আলো-বাতাসে নবজাতক শিশু হিসেবে তাঁর আগমন ঘটবে।

অবশেষে এলো সেই শুভক্ষণ।

৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার পবিত্র ভূমিতে জন্ম নিলেন এক ফুটফুটে শিশু। দেখতে সে আর দশটি শিশুর মতোই—ছোট্ট দুটি হাত, ছোট্ট দুটি পা, নিষ্পাপ মুখ আর মায়াভরা চাহনি।

কিন্তু এই শিশুটি ছিলেন অসাধারণ। এই শিশুটির নাম—মুহাম্মাদ।

তার বাবার নাম ছিল আবদুল্লাহ। আর মায়ের নাম আমিনা। দুঃখের বিষয়, তার জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেছিলেন। তাই পৃথিবীতে আসার আগেই তিনি হারিয়েছিলেন তার বাবাকে।

ভাবতে পারো?

যে শিশু তখনও বাবার মুখ দেখেনি, সেই শিশুই একদিন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হয়ে উঠবেন!

ওহে ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা কি জানো—

এই শিশু মুহাম্মাদই পরবর্তীতে আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসুল হবেন!

যখন তিনি নবী হলেন, তখন মানুষ তাকে ভালোবেসে বলল—

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

তিনি ছিলেন রহমাতুল্লিল আলামিন—সমস্ত জগতের জন্য রহমত।

তিনি ছিলেন খাতামুন নাবিয়্যিন—সর্বশেষ নবী।

তিনি ছিলেন সত্যের পথে মানুষের মহান শিক্ষক, ন্যায় ও শান্তির পথপ্রদর্শক।

তার মুখে ছিল সত্যের কথা,

তার হৃদয়ে ছিল মানুষের জন্য ভালোবাসা,

তার জীবনে ছিল ক্ষমা, দয়া ও সুন্দর আচরণের শিক্ষা।

তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন—অন্যায় করো না, মিথ্যা বলো না, দুর্বলকে কষ্ট দিও না। এতিমের পাশে দাঁড়াও, দরিদ্রকে ভালোবাসো, প্রতিবেশীর হক আদায় করো। এমনকি পশুপাখির প্রতিও দয়া করো।

তার আদর্শের আলো ছড়িয়ে পড়ল মক্কা থেকে মদিনায়, আর সেখান থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্তে।

যে পৃথিবী একদিন অন্ধকারে পথ হারিয়েছিল, সেখানে জ্বলে উঠল সত্য ও মানবতার আলো।

মরুর বুকে ফুটল শান্তির ফুল,

ভালোবাসায় ভরে উঠল মানুষের মন।

অন্ধকার পথ পেল আলোর দিশা,

ভুলে যাওয়া মানুষ পেল সত্যের সন্ধান।

তাই প্রিয় শিশুরা, তোমরা যদি সত্যিই সুন্দর মানুষ হতে চাও, তাহলে শুধু শিশু মুহাম্মাদের গল্প শুনলেই হবে না—তাঁর সুন্দর আদর্শও জীবনে ধারণ করতে হবে।

সত্য কথা বলবে।

বাবা-মাকে ভালোবাসবে।

ছোটদের স্নেহ করবে।

বড়দের সম্মান করবে।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

কাউকে অকারণে কষ্ট দেবে না।

আর সবসময় সুন্দর চরিত্রের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে।

মনে রেখো—

শিশু মুহাম্মাদ ছিলেন ছোট্ট একজন শিশু, কিন্তু তার জীবন হয়ে উঠেছিল সমগ্র মানবতার জন্য এক বিশাল আলোর পথ।

তাই এসো, আমরা সবাই তার ভালোবাসা, দয়া, সত্য ও সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করি।

হয়তো আমরাও একদিন পৃথিবীর কোনো এক কোণে

কারও অন্ধকার জীবনে

একটুখানি আলোর প্রদীপ হয়ে উঠতে পারব।

লেখক: ফাজেলে জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রাম

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম