ছবি: জেমিনি এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একখনকার সময়ে কি শপথ এর জন্য প্রমিজ শব্দকে ব্যাবহার করা হয়? আমার প্রশ্ন হলো— কেউ যদি আল্লাহর কসম এর স্থলে ‘প্রমিজ’ শব্দ ব্যাবহার করে! তাহলে সেটা ভাঙ্গার হুকুম কি?
না, কেউ যদি ‘প্রমিজ’ বলে তবে কসম হবে না। ইংরেজি ‘প্রমিজ’ শব্দটি শরয়ী কসমের অর্থবহ নয়। বরং সর্বোচ্চ নিজের কথার দৃঢ়তাকে বুঝায়। তাই এর দ্বারা শরয়ী কসমের হুকুম আরোপিত হবে না।
তবে যদি কোনো এলাকায় এ (প্রমিজ) শব্দে আরবি ‘কসম’-এর অর্থেই সকলে ব্যবহার করা নির্ধারিত হয়ে যায়। যেমন বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ ‘আল্লাহর কিরা’ বলে কসম দিয়ে থাকে। এটাকে সবাই কসম অর্থেই জানে। এমন প্রচলিত হলে, অঞ্চলভিত্তিক প্রচলন অনুযায়ী ‘প্রমিজ’ বলার দ্বারাও কসম সাব্যস্ত হবে।
আর কসম হয়ে গেলে কসম ভঙ্গ করলে কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে।
কসমের কাফফারা
لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ۚ ذَٰلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ ۚ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
‘আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধ। অতএব, এর কাফফরা এই যে, দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাক। অথবা, তাদেরকে বস্তু প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে দেবে। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবে। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। (সুরা মায়িদা: আয়াত ৮৯)
উক্ত আয়াতের আলোকে কসমের কাফফারা হলো—
ব্যক্তি তার পরিবারকে নিয়ে মধ্যম ধরণের যে খাবার গ্রহণ করে এমন খাবার দশজন মিসকিনকে দুই বেলা খাইয়ে দেবে। অথবা দুই জোড়া কাপড় দিয়ে দেবে। যা সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা একদিন খরচ ধরা হবে। সেই হিসেবে সদকায়ে ফিতর পরিমাণকে দশ দিয়ে গুণ দিলে যত টাকা হয়, তাই হবে কসমের কাফফারা। যেমন গত রোজায় সদকায়ে ফিতির ছিল ১১০ টাকা। তো সেই হিসেবে ১১০০[ এগারো শত টাকা] হবে কসমের কাফফারা। এটি বর্তমান মূল্য হিসেবে ধরা হয়েছে। আগে পরে পরিবর্তিত হতে পারে।
যে ব্যক্তি এর সামর্থ রাখে না, সে তিন দিন রোজা রাখবে।
আরেকটি বিষয়, এমন অযথা কসম করলে উক্ত কসম ভেঙ্গে ফেলাই শরীয়তের বিধান।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم– « مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِ الَّذِى هُوَ خَيْرٌ وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— ‘যে ব্যক্তি কোন কিছুর কসম খায়, তারপর এর বিপরীত কাজে কল্যাণ দেখে, তাহলে সে যেন উক্ত কল্যাণধর্মী কাজটি করে এবং স্বীয় কসমের কাফফারা প্রদান করে।’

