ঢিলা-কুলুখ নিয়ে কি ৪০ কদম হাঁটতে হয়?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনেকের মধ্যে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, পস্রাবের পর পবিত্রতা অর্জনের জন্য ঢিলা-কুলুখ নিয়ে ৪০ কদম হাঁটতে হয়। এমনকি কেউ কেউ গুনে গুনে ৪০ কদম হাঁটেন। তবে ইসলামি বিধানের আলোকে এ ধারণার নির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। পস্রাব থেকে ইস্তিবরা করার ক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রয়োজন ও অভ্যাস অনুযায়ী কিছুক্ষণ হাঁটা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এর সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে ৪০ সংখ্যার কোনো সম্পর্ক নেই।
হাদিস শরিফে পস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জনের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পান, যাদের কবরে আজাব দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বলেন, তাদের আজাব দেওয়া হচ্ছে এবং তারা এমন কোনো বিষয় থেকে আজাব পাচ্ছে না, যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন। এরপর তিনি বলেন, তাদের একজন পস্রাব থেকে ইস্তিবরা করত না এবং অন্যজন পরনিন্দা করত।
এ বর্ণনাটি সুনানে নাসাঈর ২০৬৮ ও ২০৬৯ নম্বর হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
ইসলামি বিধানে ইস্তিবরা বলতে পস্রাবের পর এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে বোঝায়, যাতে পস্রাবের ফোঁটা বের হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। ব্যক্তির অভ্যাস অনুযায়ী এ জন্য কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা, গলা খাকারি দেওয়া বা এ ধরনের অন্য কোনো স্বাভাবিক পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।
ফিকহের গ্রন্থে ইস্তিবরার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি তার অভ্যাস অনুযায়ী এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে পস্রাবের অবশিষ্ট অংশ বের হয়ে যাওয়ার পর আর ফোঁটা আসার আশঙ্কা না থাকে।
অর্থাৎ, কারও ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি প্রয়োজন হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে অন্য কোনো পদ্ধতিই যথেষ্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে ৪০ কদম হাঁটতেই হবে—এমন কোনো বিধান নেই।
তাই পস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো, পবিত্রতা নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী সময়ে পস্রাবের ফোঁটা বের হওয়ার আশঙ্কা দূর করা। কারও হাঁটার প্রয়োজন হলে শালীনতা বজায় রেখে তিনি হাঁটতে পারেন। তবে ৪০ কদম গুনে হাঁটাকে ইসলামের নির্ধারিত বিধান মনে করা সঠিক নয়।
সূত্র: আলকাউসার
