Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক গ্রহণ করা কি জায়েজ?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক গ্রহণ করা কি জায়েজ?

প্রশ্ন: আমাদের দেশে অনেক কোম্পানি বা দোকানমালিক এভাবে অফার দেন যে, অমুক পণ্যটি ওই শোরুম থেকে কিনলে এত টাকা ক্যাশব্যাক দেওয়া হবে।

আমার প্রশ্ন হলো, এভাবে পণ্য ক্রয় করে ক্যাশব্যাক গ্রহণ করা কি জায়েজ?

উত্তর: পণ্যের দাম কমিয়ে রাখা বিক্রেতার ইচ্ছাধীন। তাই পণ্য ক্রয় করার পর ক্যাশব্যাক প্রদান করা বিক্রেতার পক্ষ থেকে পণ্যমূল্য কমিয়ে দেওয়ার হুকুমে হবে। সেই হিসেবে ক্যাশব্যাক গ্রহণ করাতে কোনো সমস্যা নেই।

সুদ হলো, কাউকে ঋণ দিয়ে তার কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা বা অন্য কোনো পার্থিব ফায়দা গ্রহণ করা।

কিন্তু বিক্রেতা যদি কোনো শর্ত ছাড়া ক্রেতাকে পণ্য ক্রয়ের পর ক্যাশব্যাক (Cashback) বা অন্য কোনো উপহার দেন, তবে তা কোনোভাবেই সুদ হবে না। কারণ, ক্রেতা বিক্রেতাকে কোনো ঋণ দেননি; বরং তিনি পণ্যের মূল্যের বিনিময়ে তার কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি বুঝে পেয়েছেন।

সুতরাং, বিক্রেতা যে ক্যাশব্যাক বা অন্য কোনো অফার দিচ্ছেন, তা কেবল হাদিয়া বা মূল্যছাড় হিসেবে গণ্য হবে; কোনো ঋণের অতিরিক্ত মুনাফা বা সুদ হিসেবে নয়।

আর ক্যাশব্যাক বলতে যদি ব্যাংক, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন—বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) ব্যবহারের কারণে ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ক্যাশব্যাক বা অফার বোঝানো হয়, তবে এর ফিকহি হুকুম হলো—যদিও এ ধরনের ক্যাশব্যাকের ব্যাপারে সমসাময়িক ওলামায়ে কেরামের মধ্যে একাধিক মতামত রয়েছে, তবে আমাদের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী মত হলো, এ ধরনের ক্যাশব্যাক বৈধ।

কেননা, ব্যাংক বা ওয়ালেট কর্তৃপক্ষ কোনো ঋণের অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে এই ক্যাশব্যাক দেয় না; বরং এটি তাদের নিজস্ব ‘মার্কেটিং কৌশল’। তারা নিজেদের কার্ড বা সেবা ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করার জন্য এ ধরনের অফার দিয়ে থাকে।

বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে কোম্পানি যে ক্যাশব্যাক দিয়ে থাকে, তা মূলত হাদিয়া হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। কাজেই কেউ চাইলে সেই টাকা গ্রহণ করে নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা নেই।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম