Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা অন্যের কাছে বলা যাবে কি?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা অন্যের কাছে বলা যাবে কি?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা ও মর্যাদা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার একান্ত আলাপ, পারিবারিক সুর ও সংকট, ব্যক্তিগত দুর্বলতা কিংবা অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলোর প্রতিটি বিষয়ই পবিত্র আমানত। এই বিশ্বাস রক্ষা করা যেমন একটি সুখী পরিবারের শর্ত, তেমনি অন্যের কাছে এসব প্রকাশ করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। দাম্পত্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং সংকটময় মুহূর্তে তা কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে— তা কুরআন ও হাদিসে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে নির্দেশ করা হয়েছে।

দাম্পত্য সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষা ও হাদিসের কঠোর হুশিয়ারি

স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ বিষয় বা একান্ত সম্পর্কের গোপনীয়তা অন্যের কাছে প্রকাশ করাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মারাত্মক গুনাহ ও আমানতের চরম খেয়ানত বলে আখ্যায়িত করেছেন—

কেয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তির শাস্তি

إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

‘কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক থেকে মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হবে সেই পুরুষ, যে তার স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গতায় লিপ্ত হয় এবং স্ত্রীও তার সাথে অন্তরঙ্গতায় লিপ্ত হয়, এরপর সে স্ত্রীর গোপনীয়তা অন্যের কাছে ফাঁস করে দেয়।’ (মুসলিম ১৪৩৭/৩৫৬৯)

সম্পর্কের তথ্য গোপন রাখা আমানত

রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যান্য বর্ণনায় স্বামী-স্ত্রীর একান্ত গোপনীয়তা রক্ষা না করাকে আমানতের খেয়ানত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা একজন মুমিনের লজ্জাশীলতা ও ইমানি আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের আবরণ বা ‘পোশাক’

পবিত্র কুরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও একে অপরের সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষার রূপক হিসেবে পোশাকের চমৎকার দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে—

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

‘তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৭)

পোশাক যেভাবে মানুষের শরীর ও ত্রুটি ঢেকে রাখে এবং সৌন্দর্য দান করে, ঠিক তেমনই স্বামী-স্ত্রীও পরস্পরকে রক্ষা করবেন, একে অপরের ব্যক্তিগত দুর্বলতা, অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক গোপন কথা সমাজের কাছে গোপন রাখবেন।

কলহ ও রাগের মুহূর্তেও গোপনীয়তার হেফাজত

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা রাগ হওয়া স্বাভাবিক। তবে রাগের মাথায় নিজের অবস্থান সঠিক প্রমাণ করতে গিয়ে বন্ধু, আত্মীয় কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সঙ্গীর গোপন কথা ছড়ানো অন্যায়—

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাবধানতা: বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইশারা-ইঙ্গিতে বা সরাসরি পোস্ট দিয়ে ব্যক্তিগত ঝামেলা বা মেসেজ প্রকাশ করা অনুচিত। এতে সমাধান তো হয়ই না, উল্টো অবিশ্বাসের দেয়াল গড়ে ওঠে এবং তৃতীয় পক্ষ অপব্যবহারের সুযোগ পায়।

বিবাদ মীমাংসায় ইসলামের সুন্দর পথচিত্র: বিচ্ছেদ বা চরম বিরোধের আশঙ্কা দেখা দিলে ইসলাম শালীন ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে অভিজ্ঞ অভিভাবক বা বিচারকের মাধ্যম বেছে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে—

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلاَحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا

‘আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করো। তারা উভয়ে সংশোধন চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৩৫)

অভিজ্ঞ কোনো বিশেষজ্ঞ বা আলেমের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রেও কেবল সমাধানের জন্য যতটুকু তথ্য বলা আবশ্যক, ততটুকুই বলা উচিত।

দাম্পত্যের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে একে অপরের সম্মান ও গোপন কথা আমানত হিসেবে আগলে রাখার মাঝে। জীবনসঙ্গীকে কেবল আনন্দের অংশীদার ভাবলেই চলবে না, বরং বিপদে-আপদে কিংবা বিরোধের সময়ও তার মর্যাদা সুরক্ষা করা ইমানি দায়িত্ব। পারস্পরিক বিশ্বাসের এই মজবুত ভিত্তি ধরে রাখলেই একটি পরিবার কাঙ্ক্ষিত শান্তির নীড়ে পরিণত হতে পারে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম