নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতে যে উপকার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পবিত্র আল কুরআন শুধু একটি গ্রন্থ নয়, মানুষের জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ দিক নির্দেশনা এই গ্রন্থে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়।
নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করলে অন্তরে প্রশান্তি অনুভব হয়, পরকালে কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও কুরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআন তিলাওয়াত, শেখা, বোঝা ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করতে পারে।
নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতে যেসব উপকার-
কুরআন তেলাওয়াতে ঈমান বাড়ে
কুরআনুল কারিম গুরুত্বের সঙ্গে পড়লে, এর অর্থ অনুধাবন করলে মুমিন বান্দার ঈমান বেড়ে যায়। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
'যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেওয়া হয়; তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে কোরআনের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা নিজ প্রভুর প্রতি ভরসা রাখে।' (সুরা আনফাল : আয়াত ২)
আল্লাহর পরিজন
কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মুমিনের জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে কিছু আল্লাহর পরিজন রয়েছে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বললেন, তারা কুরআনের পরিজন, তারাই আল্লাহর বিশেষজন।
অন্তর সজীব রাখে
আত্মার প্রশান্তিতে কুরআন তেলাওয়াতের বিকল্প নেই। অন্তরে হতাশা যত বেশিই হোক না কেন, কুরআন তেলাওয়াত করলে বা শুনলে হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে যায়। তাও ওঠে এসেছে কোরআনের বর্ণনায়-
'যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়।' (সুরা রাদ : আয়াত ২৮)
কুরআন সুপারিশকারী হবে
কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারলে কেয়ামতের দিন কুরআন তার জন্য সুপারিশ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো। কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার সঙ্গীদের জন্য সুপারিশকারী হবে।
জান্নাতে লাভ
কুরআনের বিধান মতো যে চলবে সে ব্যক্তি সফল। বিশেষ করে কোরআন তার তেলাওয়াতকারীর জন্য জান্নাতের যাওয়ার অন্যতম মাধ্যমও বটে।
অন্তরের প্রশান্তি
পরিবার, কর্মজীবন বা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে অনেক সময় মানুষের অন্তর অশান্ত হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে কুরআন মুমিনের জন্য প্রশান্তির অন্যতম উৎস হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।
প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতের জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করা উচিত। নিয়মিত তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি তৈরি হয়।
সঠিক পথ দেখায়
মুমিন মুসলমানের জন্য হেদায়েত ও পথ নির্দেশ হচ্ছে আল কুরআন। ব্যক্তি, পারিবার, সামাজ কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবন কীভাবে পরিচালিত হবে তা-ও রয়েছে এ মহাগ্রন্থে।
