Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

ঘুস দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা করা যাবে কি?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

ঘুস দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা করা যাবে কি?

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্টসহ নির্মাণকাজের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্সধারীরা নির্ধারিত ফি দিয়ে টেন্ডারের ফরম ক্রয় করে জমা দেন। এরপর লটারি বা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করে নিজেদের মধ্যে এসব কাজ ভাগাভাগি করে নেন। বাইরে থেকে কেউ টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে চাইলে তার ফরমের মূল্য ও অতিরিক্ত কিছু টাকা নিয়ে কাজটি করার সুযোগ করে দেয়।

অনেক বৈধ লাইসেন্সধারী এসব ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের নির্ধারিত কাজ নিয়ে সম্পন্ন করে এবং এর বিনিময়ে লাভ অর্জন করে থাকে। এখন জানার বিষয় হলো—

১. এভাবে সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে কাজ গ্রহণ করা কি শরিয়তসম্মত?

২. এভাবে সম্পন্ন করা কাজ থেকে অর্জিত লাভ কি হালাল হবে?

ইসলামী শরিয়ত এবং দেশের প্রচলিত আইন— কোনো নিয়মেই ঘুস দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা করা বৈধ নয়। ঘুস দেওয়া এবং নেওয়া উভয়ই সম্পূর্ণরূপে হারাম ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ঠিকাদারি ব্যবসার ক্ষেত্রে ঘুসের বিষয়টি দুটি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়—

১. ইসলামি শরিয়তের বিধান (ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ)

সলামে ঘুসকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম) ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ বিধান: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঘুস দাতা এবং ঘুস গ্রহীতা উভয়ের ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ)।’ তাই কাজ পাওয়ার জন্য বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য ঘুস দেওয়া কবিরা গুনাহ।

২. ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি (বাধ্য হলে)

আধুনিক যুগের ফকিহ ও ইসলামি স্কলারদের (ফতোয়া অনুযায়ী) মতে, যদি কোনো ব্যক্তি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তার ন্যায্য পাওনা বা অধিকার আদায়ের জন্য ঘুস দিতে বাধ্য হন, এবং ঘুস না দিলে তিনি মারাত্মক জুলুমের শিকার হন, তবেই কেবল নিরুপায় হয়ে নিজের অধিকার রক্ষায় অর্থ দেওয়া শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত হতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রেও যিনি ঘুষ নিচ্ছেন, তিনি সম্পূর্ণ গুনাহগার হবেন। ঘুসের মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট করা যাবে না (যেমন— ঘুস দিয়ে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্যের কাজ ছিনিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম)।

পক্ষান্তরে, বৈধ লাইসেন্সধারী ব্যক্তি যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করলে শুধু বাধ্যতামূলকভাবে ঘুস দেওয়ার কারণে তিনি গুনাহগার হবেন না। সুতরাং, উক্ত পদ্ধতিতে কাজ গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করলে কাজ থেকে অর্জিত লাভের অংশও জায়েজ হবে।

دفع المال للسلطان الجائر لدفع الظلم عن نفسه، وماله، ولا يستخراج حق له ليس برشوة يعنى فى الدافع (رد المحتار، زكريا-9/607، كرتاشى-6/423، البحر الرئق، زكريا-6/441، كويته-6/262، الفتاوى الهندية-4/403، جديد-4/431)

‘জালিম বাদশাহ বা শাসককে নিজের জীবন ও সম্পদ থেকে জুলুম প্রতিহত করার জন্য কিংবা নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান করা, যা অন্য কোনো ব্যক্তির অধিকার হরণ বা অবৈধ সুবিধা অর্জনের জন্য নয়, তা প্রদানকারীর জন্য ‘ঘুষ’ হিসেবে গণ্য হবে না।’ (রদ্দুল মুহতার ৯/৬০৭, দারুল ফিকর/জাকারিয়া; ক্যারাচি সংস্করণ ৬/৪২৩; আল-বাহরুর রায়েক, জাকারিয়া সংস্করণ ৬/৪৪০-৪৪১, কোয়েটা সংস্করণ ৬/২৬২; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া, নতুন সংস্করণ ৪/৪৩১)

أما إذا اعطى ليوتصل به إلى حق، أو ليدفع به عن نفسه ظلما، فلا بأس به (مرقاة المفاتيح، كتاب الأمارة والقضاء، باب رزق الولاة وهداياهم، الفصل الثانى-7/295، رقم-3753)

‘নিজের অধিকার আদায়ের জন্য অথবা নিজের ওপর থেকে জুলুম প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে কাউকে কিছু প্রদান করা হলে তাতে কোনো সমস্যা বা দোষ নেই।’ (মিরকাতুল মাফাতিহ, কিতাবুল ইমারাহ ওয়াল কাজা, বাব রিযকিল ওলাতি ওয়া হাদায়া হুম, দ্বিতীয় অধ্যায়: ৭/২৯৫, হাদিস নম্বর: ৩৭৫৩)

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম