Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

স্বামীর অবৈধ আয়ে স্ত্রীর জন্য ভরণপোষণ নেওয়া জায়েজ কিনা

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

স্বামীর অবৈধ আয়ে স্ত্রীর জন্য ভরণপোষণ নেওয়া জায়েজ কিনা

ছবি: সংগৃহীত

পার্থিব জীবনে হালাল উপার্জনের ওপর ইসলামে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রিজিক হালাল হওয়া ইবাদত কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত। তবে কোনো কারণে স্বামীর সম্পূর্ণ বা আংশিক উপার্জন হারাম হলে স্ত্রীর করণীয় কী এবং তিনি সেই অর্থ বা খাবার গ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ইসলামি ফিকহে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা রয়েছে।

স্ত্রীর অধিকার ও স্বামীর দায়িত্ব

ইসলামে স্ত্রীর মৌলিক ভরণপোষণ তথা খাবার, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা স্বামীর ওপর ফরজ। তবে স্বামীকে অবশ্যই হালাল উপায়ে উপার্জন করে তা স্ত্রীর হাতে অর্পণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা হালাল ও পবিত্র রিজিক অন্বেষণ করার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِی الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا

‘হে মানুষ, পৃথিবীর জমিনে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৬৮)

সম্পূর্ণ আয় অবৈধ হলে করণীয়

স্বামীর সমস্ত উপার্জন যদি নিশ্চিতভাবে সুদ, ঘুষ, চুরি বা অন্য কোনো হারাম পন্থায় অর্জিত হয়, তবে জেনেশুনে সেই টাকা দিয়ে তৈরি খাবার বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা স্ত্রীর জন্য জায়েজ নয়। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিজ উদ্যোগে হালাল খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে নিজের ব্যক্তিগত কোনো হালাল উপার্জন বা বাবার বাড়ির সহায়তায় জীবন নির্বাহ করতে হবে।

আংশিক অবৈধ আয়ের বিধান

স্বামীর আয়ের কিছু অংশ যদি বৈধ এবং কিছু অংশ অবৈধ হয়, তবে ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী স্ত্রী তার স্বাভাবিক ভরণপোষণের জন্য সেখান থেকে অর্থ ও খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। কারণ, মিশ্র সম্পত্তির ক্ষেত্রে হারাম অংশ আলাদা করা সম্ভব না হলে এবং তা নিশ্চিত না হলে স্ত্রী সাধারণ নিয়মে তা ব্যবহার করতে পারেন।

অসহায় বা নিরুপায় অবস্থার বিশেষ ছাড়

যদি স্ত্রীর নিজের কোনো আয়ের উৎস না থাকে, বাবার বাড়ি থেকেও সহায়তার সুযোগ না থাকে এবং তিনি সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে পড়েন, তবে শরিয়তের বিশেষ ছাড় বা ‘ইযতিরার’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) বিধান প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু ন্যূনতম খাবার বা ভরণপোষণ স্বামীর ওই উপার্জন থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এর অতিরিক্ত কোনো বিলাসিতা বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা জায়েজ হবে না। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে—

فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ

‘অতঃপর যে ব্যক্তি চরম বিপদের মুখে পড়ে (হারাম খেতে বাধ্য হয়), অথচ সে অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তবে তার কোনো পাপ হবে না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৭৩)

অন্যায় ও গুনাহের দায়

স্ত্রী যদি স্বামীকে হালাল উপার্জনের জন্য বারবার নসিহত ও তাগিদ করেন এবং নিজে নিরুপায় হয়ে কেবল বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ভরণপোষণ গ্রহণ করেন, তবে হারাম উপার্জনের মূল গুনাহ ও জবাবদিহিতা সম্পূর্ণ স্বামীর ওপরই বর্তাবে, স্ত্রীর ওপর নয়।

দাম্পত্য জীবনে হালাল উপার্জনের বরকত ও প্রশান্তি আনতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই সতর্ক থাকা আবশ্যক। রিজিকের পবিত্রতা রক্ষা করার মাধ্যমেই কেবল পারিবারিক জীবনে আল্লাহর রহমত ও সুখ-শান্তি বজায় রাখা সম্ভব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম