ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত করলে কি কার্যকর হবে?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোনো বাবা যদি তার একাধিক সন্তানের মধ্য থেকে কোনো একজন সন্তানের জন্য মৃত্যুর পর কিছু সম্পদ দেওয়ার অসিয়ত করে যান, তাহলে ওই অসিয়ত কি শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হবে?
উত্তর— যে ব্যক্তি মীরাছের হকদার বা ওয়ারিশ, তার জন্য করা অসিয়ত শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয় না। সুতরাং বাবা-মা তাদের কোনো ওয়ারিশ সন্তানের জন্য অতিরিক্ত কোনো সম্পদ দেওয়ার অসিয়ত করে গেলে, শুধু সেই অসিয়তের ভিত্তিতে তা কার্যকর হবে না।
তবে অন্যান্য ওয়ারিশগণ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই অসিয়ত অনুমোদন করে দেন, তাহলে তাদের অনুমতির পর তা কার্যকর করা যাবে।
পক্ষান্তরে, এমন কোনো ব্যক্তির জন্য অসিয়ত করা হলে, যে মীরাছের ওয়ারিশ নয়, তাহলে তার জন্য করা অসিয়ত মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত কার্যকর হবে। এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করলে অতিরিক্ত অংশ কার্যকর করার জন্য ওয়ারিশদের সম্মতি প্রয়োজন হবে।
أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حِجَّةِ الْوَدَاعِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ (سنن ابن ماجه، رقم-2713، سنن ابى داود، رقم-2870)
হজরত আবা উমামাহ আল-বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— আমি বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি— ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার পাওনা দিয়ে দিয়েছেন। অতএব, কোনো ওয়ারিশের (উত্তরাধিকারীর) জন্য কোনো অসিয়ত নেই।’ (ইবনে মাজাহ ২৭১৩, আবু দাউদ ২৮৭০)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَجُوزُ الْوَصِيَّةُ لِوَارِثٍ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْوَرَثَةُ (سنن الدار قطنى، رقم-4150، السنن الكبرى للبيهقى، رقم-12534)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘কোনো ওয়ারিশের (উত্তরাধিকারীর) জন্য অসিয়ত জায়েজ বা কার্যকর নয়, তবে যদি অন্য ওয়ারিশরা অনুমতি দেয় (সন্তুষ্ট হয়ে ছেড়ে দেয়)।’ (দারাকুতনি ৪১৫০, বাইহাকি ১২৫৩৪)

