Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

পাত্র খুঁজতে ঘটককে পাত্রীর ছবি দেওয়া যাবে কি?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

পাত্র খুঁজতে ঘটককে পাত্রীর ছবি দেওয়া যাবে কি?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইসলামি জীবনবিধানে বিয়েকে এক পবিত্র সামাজিক ও আত্মিক বন্ধন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সুন্দর সম্পর্কের সূচনা যেন সঠিক ও শরিয়তসম্মত পন্থায় হয়, সে বিষয়ে ইসলাম স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। বর্তমান যুগে বিয়ের জন্য ঘটক বা বিভিন্ন মাধ্যমের শরণাপন্ন হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে অনেক সময় না জেনে বা অসচেতনতাবশত পাত্র খোঁজার জন্য ঘটকের কাছে পাত্রীর ছবি হস্তান্তর করা হয়। ইসলামের পর্দার বিধান ও বর্তমান প্রযুক্তির নানা ঝুঁকির নিরিখে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। শরিয়তের কষ্টিপাথরে ঘটককে পাত্রীর ছবি দেওয়ার বিধান ও সঠিক পন্থা নিচে আলোচনা করা হলো—

ঘটকের কাছে পাত্রীর ছবি দেওয়ার শরিয়তি বিধান

পাত্র খোঁজার উদ্দেশ্যে ঘটকের কাছে পাত্রীর ছবি দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ বা নিষিদ্ধ। এর মাধ্যমে পাত্রীর ওপর বাধ্যতামূলক পর্দার বিধান মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়। সাধারণত ঘটক নিজেই একজন পরপুরুষ (গাইরে মাহরাম) হতে পারেন, অথবা সেই ছবি এমন অনেক পুরুষের হাতে বা চোখে পড়ে, যাদের আদতে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে নেই।

এছাড়া বর্তমান আধুনিক যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ডিজিটাল ছবি বিকৃত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, কিংবা সম্মানহানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো নানান সামাজিক ফেতনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই কোনোভাবেই ঘটককে ছবি দেওয়া সমীচীন নয়।

ছবি না দিয়ে সঠিক উপায়ে প্রস্তাব পাঠানোর নিয়ম

বিয়ের প্রস্তাব বা পাত্রী অনুসন্ধানের জন্য ঘটকের কাছে পাত্রীর নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক গড়ন ও রূপ-গুণের বিবরণ এবং পারিবারিক পরিচয় বা বায়োডাটা জানানো যাবে। এই বিবরণ শুনে কোনো পাত্রপক্ষ আগ্রহী হলে, পাত্রের পরিবারের নারী সদস্যরা এবং পাত্র নিজে এসে সরাসরি পাত্রীকে দেখে যেতে পারেন।

বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রী দেখা: সুন্নাহর নির্দেশনা

কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেই হবু বরের জন্য পাত্রীকে সরাসরি দেখে নেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং সুন্নত। এতে উভয়ের মধ্যে বোঝাপড়া ও ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। একইভাবে কনেও চাইলে হবু বরকে দেখে নিতে পারেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বিয়ের আগে পাত্রী দেখে নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন—

إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ

‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে নেওয়া উচিত, যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে।’ (আবু দাউদ ২০৮২)

একই প্রসঙ্গে হজরত মুগিরা বিন শোবা (রা.) বলেন, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। তা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি তাকে দেখেছেন? আমি বললাম, না, দেখিনি। তখন তিনি বললেন—

انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا

‘তাকে দেখে নিন। কেননা আপনাদের এই পারস্পরিক দেখা আপনাদের দাম্পত্য জীবনে প্রণয় ও ভালোবাসা গভীর হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে।’

(তিরমিজি ১০৮৭)

কারা পাত্রীকে দেখতে পারবেন?

মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে, সরাসরি পাত্রী দেখার এই বিশেষ অনুমতি কেবল ইচ্ছুক 'হবু বর'-এর জন্যই প্রযোজ্য। হবু বরের বাবা, দাদা, ভাই, মামা, চাচা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্য কোনো পরপুরুষের (গাইরে মাহরাম) সামনে হিজাব বা পর্দা ছাড়া পাত্রীর যাওয়া কিংবা ছবি উপস্থাপন করা শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম। কেবল পরিবারের নারী সদস্যগণ অথবা হবু বর একান্তে (পর্দার শিষ্টাচার বজায় রেখে) পাত্রীকে দেখতে পারবেন।

কুরআনের দৃষ্টিতে দৃষ্টি সংযত করা ও পর্দার নির্দেশ

পর্দা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ও ফরজ বিধান। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার এবং সৌন্দর্য গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন—

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴿٣٠﴾ وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ...  

‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজেদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, কামনামুক্ত পুরুষ অধীনস্থ বা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে...। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩০-৩১)

পুরোপুরি শরিয়তের নিয়ম মেনে পবিত্র ও বরকতময় দাম্পত্য জীবনের সূচনা হওয়া উচিত। ক্ষণিক স্বস্তির জন্য ছবি বিলি করে কোনো মুসলিম নারীর সম্মান ও পর্দাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অনুচিত। সঠিক ও সুন্নাহসম্মত উপায়ে মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমে বিয়ের আলোচনা এগিয়ে নেওয়াই ইসলামি ও নিরাপদ পথ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম