ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে ইসলাম মানবজাতিকে যে কটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে, তার মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা অন্যতম। একে আরবিতে ‘সিলায়ে রাহিম’ বলা হয়। মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসার পরিধি বিস্তৃত করতে এবং সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে রক্তের ও বিশ্বাসের এই সম্পর্ক রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার অপরিহার্যতা
আল্লাহর নির্দেশের সঙ্গে সংযোগ
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি সরাসরি মহান আল্লাহর নির্দেশের সঙ্গে জড়িত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আত্মীয়দের হক আদায়ের তাগিদ দিয়ে ইরশাদ করেছেন—
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ
‘আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সওয়াল করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের ব্যাপারে সতর্ক থাক।’ (সুরা নিসা: আয়াত ১)
রহমতের বিশেষ সংযোগ
‘রহিম’ বা আত্মীয়তার সম্পর্কটি পরম করুণাময় আল্লাহর ‘রহম’ বা দয়া নামের সঙ্গে যুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে কুদসির বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
أَنَا الرَّحْمَنُ وَهَى الرَّحِمُ شَقَقْتُ لَهَا اسْمًا مِنِ اسْمِي مَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا قَطَعْتُهُ
‘আমি রহমান (পরম করুণাময়), আর এটি হলো ‘রহিম’ (আত্মীয়তার বন্ধন)। আমি এর নামকরণ আমার নাম থেকে করেছি। যে ব্যক্তি একে যুক্ত রাখবে, আমি তাকে আমার রহমতের সঙ্গে যুক্ত রাখব। আর যে একে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে আমার রহমত থেকে বিচ্ছিন্ন করব।’ (তিরমিজি ১৯০৭)
রিজিক ও দীর্ঘায়ুতে বরকত
আত্মীয়ের খোঁজখবর নেওয়া এবং বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো পার্থিব জীবনেও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ডেকে আনে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন—
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি ২০৬৭)
সম্পর্ক ছিন্ন করার কঠিন পরিণতি
রক্ত ও আক্ষরিক অর্থে আত্মীয়তা বজায় রাখা শুধু তাদের সঙ্গেই নয়, যারা ভালো ব্যবহার করে। বরং যারা সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায়, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক জোড়া লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নবীজি (সা.) বলেছেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ
‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম ২৫৫৬)
ইমানের মাপকাঠি
পরকালের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস ও ইমানের অন্যতম প্রকাশ ঘটে মানুষের আচার-আচরণে। আত্মীয়দের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাকে ইমানের পরিচায়ক হিসেবে উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে ইমান রাখে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ৬১৩৮)
পরিশেষে, আত্মীয়তার সম্পর্ক হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার এক অটুট বন্ধন। ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ায় ভুলত্রুটি বা ভুল বোঝাবুঝি ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই পবিত্র বন্ধনকে জীবন্ত রাখা মানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং সমাজকে ভালোবাসার আলোয় আলোকিত করা।

