Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

মসজিদ-মাদ্রাসার ফান্ডের অর্থ ও সম্পদে কি জাকাত ওয়াজিব হয়?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

মসজিদ-মাদ্রাসার ফান্ডের অর্থ ও সম্পদে কি জাকাত ওয়াজিব হয়?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইসলামে জাকাত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন বা স্তম্ভ। নির্দিষ্ট নেসাব পরিমাণ মালের ওপর বছর পূর্তি হলে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য জাকাত আদায় করা ফরজ। তবে প্রশ্ন হলো— দ্বীনি প্রতিষ্ঠান যেমন মসজিদ ও মাদ্রাসার ফান্ডে জমে থাকা টাকা-পয়সা বা অন্যান্য সম্পদের ওপর কি জাকাত ওয়াজিব হবে? সাধারণ মানুষের মনে এই বিষয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন থাকতে পারে। শরিয়তের মূলনীতি ও ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থগুলোর আলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ মাসআলার সুস্পষ্ট সমাধান নিচে আলোচনা করা হলো।

মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পদে জাকাতের বিধান

মসজিদ ও মাদ্রাসার ফান্ডে জমাকৃত টাকা-পয়সা কিংবা অন্য কোনো সম্পদের ওপর কোনো ধরনের জাকাত ওয়াজিব নয়। জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য মূল শর্ত হলো— সম্পদটি কোনো পূর্ণবয়স্ক (বালেগ), সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন এবং স্বাধীন মুসলিম ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনু আবিদিন শামী (রহ.) ‘আদ্দুররুল মুখতার’ কিতাবে জাকাতের ওয়াজিব হওয়ার শর্ত সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন—

وشرط وجوبھا عقل و بلوغ وإسلام وسببہ ملک نصاب حولي

‘জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো— জ্ঞানসম্পন্ন (সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন) হওয়া, বালেগ হওয়া এবং মুসলিম হওয়া। আর এর কারণ হলো পূর্ণ নেসাব পরিমাণ মালের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া (মালিকানাধীন থাকা)।’ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৩)

পক্ষান্তরে মসজিদ ও মাদ্রাসার সম্পদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন থাকে না; বরং এসব সম্পদ মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওয়াকফকৃত বা উৎসর্গীকৃত সম্পদ। এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ অভিমত উল্লেখ করে ফহিহগণ বলেন—

وعندھما ھو حسبھا علی حکم ملک اللّٰہ تعالی

‘আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, ওয়াকফকৃত সম্পত্তি আল্লাহর মালিকানার বিধানের ওপর অর্পণ করা হয় (অর্থাৎ তা আল্লাহর মালিকানাধীন হিসেবে গণ্য হয়)।’ (রদ্দুল মুখতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫২০, কিতাবুল ওয়াকফ)

সুতরাং, মাদ্রাসা ও মসজিদের ফান্ডে যত টাকাপয়সা বা সম্পদই জমা থাকুক না কেন, যেহেতু তা কোনো ব্যক্তি বিশেষের মালিকানাধীন নয়, তাই তার ওপর বিন্দুমাত্র জাকাত ওয়াজিব হবে না।

সারকথা হলো, মসজিদ ও মাদ্রাসা আল্লাহর ঘর ও দ্বীনি তালীমের কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে সাধারণ মানুষের দেওয়া দান, সদকা বা ওয়াকফকৃত অর্থ কেবল ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, শিক্ষার্থী বা পরিচালনা কাজেই ব্যয় করতে হয়। ব্যক্তি মালিকানা না থাকায় এই সম্পদে জাকাত আরোপের কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের শরিয়তের সঠিক বিধানগুলো জেনে সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ইয়াজুজ-মাজুজ নিয়ে প্রচলিত কাহিনি: কোনটি সত্য আর কোনটি বানোয়াট?

ইয়াজুজ-মাজুজ নিয়ে প্রচলিত কাহিনি: কোনটি সত্য আর কোনটি বানোয়াট?

জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজ করা যাবে কি?

জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজ করা যাবে কি?

ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণের প্রত্যাশা পূরণের আমল কী?

ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণের প্রত্যাশা পূরণের আমল কী?

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়াই কি আবশ্যক?

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়াই কি আবশ্যক?

খুতবা ছাড়া কি জুমার নামাজ আদায় হবে?

খুতবা ছাড়া কি জুমার নামাজ আদায় হবে?

দীর্ঘ হায়াত পাওয়ার কৃতজ্ঞতায় মসজিদ নির্মাণ!

দীর্ঘ হায়াত পাওয়ার কৃতজ্ঞতায় মসজিদ নির্মাণ!

আরও পড়ুন

ফ্রিতে ওমরাহ করার বিশাল সুযোগ, যেভাবে পাবেন

ফ্রিতে ওমরাহ করার বিশাল সুযোগ, যেভাবে পাবেন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬

বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন

বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন

ইয়াজুজ-মাজুজ নিয়ে প্রচলিত কাহিনি: কোনটি সত্য আর কোনটি বানোয়াট?

ইয়াজুজ-মাজুজ নিয়ে প্রচলিত কাহিনি: কোনটি সত্য আর কোনটি বানোয়াট?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম