কনের সম্মতি ছাড়া কাবিনে মোহরানা কম লেখা যাবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, মোহরানা নির্ধারণ করার পর কাবিননামায় তা লেখানোর সময় নির্ধারিত মোহর থেকে কম লেখার সুযোগ আছে কিনা। যদি থাকে, তাহলে কীভাবে কমাবে?
উত্তরে ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের জানান, বিবাহে মহর নির্ধারণ ও পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান।
নির্ধারিত মোহর থেকে কাবিননামায় কম লেখার সুযোগ আছে, তবে তা কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বৈধ।
মোহর সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর নিজস্ব ও একক অধিকার। এতে স্বামী, অভিভাবক বা কাজির নিজ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ বা কাটছাঁট করার অধিকার নেই।
তবে স্ত্রী যদি প্রাপ্তবয়স্কা ও সুস্থ মস্তিষ্কের হন এবং তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে মহরের কিছু অংশ বা পুরোটা কমিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেন, তবে তা কমানো বা কাবিননামায় কম লেখা জায়েজ।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا
আর তোমরা নারীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও। অতঃপর যদি তারা খুশি মনে তার কিছু অংশ তোমাদের জন্য ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও তৃপ্তিসহকারে ভোগ করো। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ
আর মোহর নির্ধারিত হওয়ার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পরে সন্তুষ্ট হলে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৪)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ
‘কোনো মুসলমানের মাল তার আন্তরিক সন্তুষ্টি ও সম্মতি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়’। (মুসনাদে আহমাদ: ২০৬৯৫; সুনানে বায়হাকি: ১১৫৪৪)
কীভাবে কমাবে? এর শর্ত হলো, কনের পূর্ণ সন্তুষ্টি ও স্বেচ্ছা সম্মতি থাকতে হবে। পারিবারিক জোরজবরদস্তি বা লোকলজ্জার ভয় দেখিয়ে কমানো যাবে না। কনে যদি অন্তর থেকে খুশি মনে নির্দিষ্ট অংক কমাতে রাজি হন, তবে সাক্ষীদের সামনে সেই নতুন অংকটি কাবিননামায় লিখে বিবাহ সম্পন্ন করা যাবে।
অনেক সময় দেখা যায়, পারিবারিকভাবে বা মুখে মোহর ঠিক করা হয়েছে এক রকম (যেমন: ১০ লাখ), কিন্তু সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি বাঁচানো বা আনুষ্ঠানিকতার জন্য কনের সম্মতি ছাড়াই কম (যেমন: ৩ লাখ) লেখা হয়, অথচ ভেতরে ভেতরে আগের অংকই বজায় রাখার কথা থাকে।
শরিয়তের হুকুম
কোনো আইনি দলিলে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য লিপিবদ্ধ করা প্রতারণা ও মিথ্যাচারের শামিল।
আর যদি কনের সম্মতি ছাড়া গোপনে কাবিননামায় কম লেখা হয়, তবে তা কনের হক নষ্ট করার মতো মারাত্মক গুনাহ। এমতাবস্থায় স্বামী শরিয়তের দৃষ্টিতে পূর্বনির্ধারিত সম্পূর্ণ মহরই পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন।
فتاوى هندية :
"وإن حطت عن مهرها صح الحط، كذا في الهداية. ولا بد في صحة حطها من الرضا حتى لو كانت مكرهة لم يصح."
(كتاب النكاح، الباب السابع في المهر، الفصل السابع في الزيادة في المهر والحط عنه فيما يزيد وينقص، ١/٣١٣، ط: دار الفكر)
والله اعلم بالصواب

-6aaa3472d24f4.jpg)