Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক নেওয়া কি জায়েজ?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক নেওয়া কি জায়েজ?

ফাইল ছবি

Advertisement

প্রশ্ন 

এক ব্যক্তি জানতে চান, কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক নেওয়া শরিয়তসম্মত কি না। একটি মাসআলা পড়ে তিনি জানতে পেরেছেন, ক্যাশব্যাক হালাল। তবে অন্য একজন আলেমের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ক্যাশব্যাককে সুদ হিসেবে উল্লেখ করে তা হারাম বলেছেন। এ নিয়ে প্রশ্নকারীর মনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম যদি ৬০০ টাকা হয় এবং অফারের কারণে ১০০ টাকা ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে সরাসরি ৫০০ টাকা নেওয়া উচিত। কিন্তু ক্যাশব্যাকের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা নেওয়ার পর পরবর্তীতে ১০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এভাবে পণ্য কেনার পর টাকা পরিশোধ শেষে কিছু টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো শরয়ি ভিত্তি বা হাদিস আছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

উত্তর 

ঢাকা আজিমপুরের ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়ার উস্তাদ মুফতী আবু সাঈদ জানান, সুদ হলো, কাউকে ঋণ দিয়ে তার কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা বা অন্য কোনো পার্থিব ফায়দা গ্রহণ করা।

কিন্তু বিক্রেতা যদি নিজে কোনো শর্ত ছাড়া ক্রেতাকে পণ্য ক্রয়ের পর ক্যাশব্যাক বা অন্য কোনো উপহার দেয়, তবে তা কোনোভাবেই সুদ হবে না। কারণ ক্রেতা বিক্রেতাকে কোনো ঋণ দেয়নি; বরং সে পণ্যের মূল্যের বিনিময়ে তার কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি বুঝে পেয়েছে। 

সুতরাং, বিক্রেতা যে ক্যাশব্যাক বা অন্য কোনো অফার দিচ্ছে, তা কেবলই হাদীয়া বা মূল্যছাড় হিসেবে গণ্য হবে, কোনো ঋণের অতিরিক্ত মুনাফা/সুদ হিসেবে নয়।

আর ক্যাশব্যাক দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয়, ব্যাংক, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের কারণে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ক্যাশব্যাক/অফারসমূহ, তবে এর ফিকহী হুকুম হলো-

যদিও এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে একাধিক মতামত রয়েছে, তবে আমাদের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী মত হলো, এ জাতীয় ক্যাশব্যাক বৈধ। কেননা, ব্যাংক বা ওয়ালেট কর্তৃপক্ষ কোনো ঋণের অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে এই ক্যাশব্যাক দিচ্ছে না; বরং এটি তাদের নিজস্ব 'মার্কেটিং কৌশল'। তারা নিজেদের কার্ড বা সার্ভিস ব্যবহার বাড়াতে জনগণকে উৎসাহিত করার জন্য এ জাতীয় অফার দিয়ে থাকে।

অনেকে এখানে প্রশ্ন তুলতে পারেন, গ্রাহক ব্যাংকে যে টাকা জমা রাখে, ফিকহের বিচারে তা তো ব্যাংককে দেওয়া ঋণ (করজ)। তাহলে সেই ঋণের সুবাদেই কি এ অফার পাওয়া যাচ্ছে না?

এর জবাবে দুটি মূল পয়েন্ট বিবেচনাযোগ্য-

১. শরীয়তের মূলনীতি হলো- সুদ তখনই হয়, যখন ঋণ দেওয়ার চুক্তির সময়ই পূর্বশর্ত থাকে যে ঋণ পরিশোধের সময় বা ঋণের মেয়াদে অতিরিক্ত কিছু দিতেই হবে। কিন্তু কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া ঋণ পরিশোধের সময় যদি ঋণগ্রহীতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি দেয়, তবে তা ফিকহের বিচারে 'সুদ' নয়; বরং তা একটি মুস্তাহাব ও প্রশংসনীয় কাজ। ফিকহের ভাষায় একে ‘হুসনে ক্বদ্বা’ (حُسْنُ الْقَضَاءِ - সুন্দরভাবে ঋণ শোধ) বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ ও অভ্যাস এমনই ছিল।

হাদীসে এসেছে, 

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَوَّاسٍ الْحَنَفِيُّ أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ لِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَيْنٌ فَقَضَانِي وَزَادَنِي، وَدَخَلْتُ عَلَيْهِ الْمَسْجِدَ فَقَالَ لِي: «صَلِّ رَكْعَتَيْنِ».

অর্থ: জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আমার কিছু পাওনা (ঋণ) ছিল। তিনি আমার সেই ঋণ পরিশোধ করলেন এবং আমাকে পাওনার চেয়ে কিছু বেশিও দিলেন। আমি মসজিদে তার কাছে প্রবেশ করলে তিনি আমাকে বললেন, তুমি দুই রাকাত সালাত আদায় করে নাও।

(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭১৫)

এখানে লক্ষণীয় যে, ব্যাংকে টাকা রাখার চুক্তিতে নির্দিষ্ট কোনো ক্যাশব্যাক পাওয়ার আইনগত অধিকার বা শর্ত থাকে না। সারা বছরে যদি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ একটি ক্যাশব্যাক অফারও না দেয়, তবে কোনো গ্রাহক তা দাবি করার আইনি অধিকার রাখে না।

২. এই ক্যাশব্যাক ব্যাংকে মূল আমানত বা ঋণ জমা রাখার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিতই নয়। কারণ, লেনদেনের ঠিক আগমুহূর্তে কেউ যদি ক্যাশব্যাক অফার দেখে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট করে দেয়, যার ফলে ব্যাংক সেই টাকা দিয়ে কোনো ব্যবসায়িক সুবিধা বা ঋণের সুযোগ নেওয়ার সময়ই পায়নি, তা সত্ত্বেও গ্রাহক ক্যাশব্যাক পেয়ে যায়। 

এ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, এই অফারের মূল উদ্দেশ্য কেবল তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহার করার উৎসাহপ্রাদানের জন্য প্রণোদনা দেওয়া। অতএব, এটিকে সুদের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয়।

ঋণদানের সম্পর্কের বাইরে স্বাভাবিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে দেওয়া উপহার বা সেবামূলক উপকার যা ঋণ না দিলেও দেওয়া হতো, তা গ্রহণ করা শরীয়তে বৈধ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম