Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

জুমার দিনে যে আমলগুলোতে মিলবে বিশেষ সওয়াব

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ এএম

জুমার দিনে যে আমলগুলোতে মিলবে বিশেষ সওয়াব

ফাইল ছবি

Advertisement

জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন; যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ফজিলত ও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। জুমার দিনের ফজিলত অনেক বেশি। এ দিনের মর্যাদার বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা ত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা আল-জুমুআহ: আয়াত ৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ

‘সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।’ (মুসলিম ১৮৫০)

এই দিনে ইবাদত ও নেক আমলে সমৃদ্ধ করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সুন্নত ও আমল পালনের মাধ্যমে এ দিনটির ফজিলত অর্জন করা যায়। জুমার দিনের উল্লেখযোগ্য কিছু আমল হলো—

শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও নখ কাটা

জুমার দিনের প্রস্তুতির অন্যতম অংশ হলো শরীর-পরিচ্ছন্নতা। সপ্তাহে অন্তত একবার শরীরের প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সুন্নতি অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। মহানবী (সা.) বলেছেন, মানব স্বভাবের (ফিতরাত) পাঁচটি বিষয় হলো—খতনা করা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের পশম উপড়ে ফেলা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৮৯)

উত্তমভাবে গোসল করা

জুমার দিনে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ দিনে জামাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই শরীর পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার পাশাপাশি সতেজ-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি।

পরিষ্কার পোশাক, মিসওয়াক ও সুগন্ধি

জুমার দিনে ভালো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা সুন্নত। পাশাপাশি মুখের পরিচ্ছন্নতার জন্য মিসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করাও উত্তম।

বেশি বেশি দরুদ পাঠ

জুমার দিনে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এই দিনে নবী আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁর ওফাত হয়েছিল। তাই এই দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো; কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

আগেভাগে মসজিদে যাওয়া

জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আগে থেকেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় অবস্থান করেন এবং আগত ব্যক্তিদের নাম ক্রমানুসারে লিখতে থাকেন। যে ব্যক্তি সবার আগে আসে, সে একটি উট কুরবানি করার সওয়াব পায়। এরপর যে আসে সে একটি গাভী, তারপর দুম্বা, এরপর মুরগি এবং সবশেষে একটি ডিম দান করার সওয়াব পায়। ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা তাঁদের খাতা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১)

খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা

জুমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো ইমামের খুতবা। খুতবা চলাকালে নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা তো নিষিদ্ধই, এমনকি অন্য কাউকে ‘চুপ করো’ বলাও নিষেধ।

জুমার নামাজ যথানিয়মে আদায় করা

জুমার দিনের অন্যতম প্রধান আমল হলো জামাতের সঙ্গে যথানিয়মে জুমার নামাজ আদায় করা।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময় অনুসন্ধান

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে তা কবুল করা হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, এ দিনে এমন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি সে সময়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে ভালো কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন। এরপর মহানবী (সা.) হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে জানান, সময়টি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫)

জুমার দিন কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের সময় নয়; বরং এটি মুমিনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও নিকটতার এক অনন্য উপহার। এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— দুনিয়ার ব্যস্ততা যতই হোক, আল্লাহর ডাকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম